বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে বিতর্কের আবহ আরও তীব্র হয়েছে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের পর। এই ইস্যুতে সাবেক রেফারিদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমকে রেফারিং নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তবে বরাবরের মতোই সংযত ও কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশম বলেন, “রেফারিদের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে।” আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেফারিং নিয়ে বিতর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি ও সহকারী রেফারিরা আর্জেন্টিনার হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এ প্রসঙ্গে দেশম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারি নয়।” তার মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে মনোযোগ থাকা উচিত খেলায়, রেফারিকে ঘিরে বিতর্কে নয়।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মরক্কো। এবার সেই স্মৃতি সামনে রেখে প্রতিশোধের প্রসঙ্গ উঠলেও দেশম সেটিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ফুটবলে অতীতের প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। যে দল ম্যাচের দিন ভালো খেলবে, জয় তারাই পাবে।
মরক্কোর বর্তমান পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন ফরাসি কোচ। তার ভাষায়, মরক্কো ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলছে এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ। তাই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও মাইকেল ওলিসের মতো তারকা থাকলেও দেশম মনে করেন, মরক্কোর বিপক্ষে আরও কার্যকর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে। তিনি বলেন, মরক্কো প্যারাগুয়ের মতো দল নয়, তাই তাদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো দেশম এর আগেই জানিয়েছেন, চলতি বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে এ প্রসঙ্গে নতুন করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন তার পুরো মনোযোগ শুধুই মরক্কো ম্যাচে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এখন নয়।