টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ শিশুশিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকসহ মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
বুধবার দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে মাদ্রাসার ওপর আছড়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। সে সময় সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিল।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় রোহিঙ্গারা
তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন শিশুশিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আহতদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ চলছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, উদ্ধার অভিযান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, উখিয়া থানা।