ইদ্রিস আলম: রাজধানীতে ঈদ উপলক্ষ্যে ফুটপাতে জমে উঠেছে নতুন টাকার বাজার। আগে থেকেই চলত এই বাজার। ঈদ এলেই সরগরম থাকে গুলিস্তান। অল্প আয়ের মানুষের ঈদে কেনাকাটার জায়গা গুলিস্তান। ঈদকে সামনে রেখে এবার আগে ভাগেই বেশ জমে উঠেছে নতুন টাকার চাহিদা। ঝকঝকে-চকচকে বিভিন্ন অঙ্কের নোট কিনতে সাধারণ মানুষ ঢাকার গুলিস্তানে ভিড় জমান। উদ্দেশ্য একটায় ঈদ বখশিশ নতুন টাকা না হলে কি জমে?
নতুন টাকা ছোটদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাদের মুখে হাসি ফুটাতে তাই বড়রা কিনছেন দুই টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকার নতুন বান্ডিল। তাতেই নাকি বেশ আনন্দ পায় শিশুরা।
ঈদের দিনের সালামি বলতেই নতুন টাকা। কড়কড়ে ১০০টাকা, ৫০০ টাকা বা ১ হাজার টাকার একটি নোট পেলে চোখে মুখে হাসির যে ছাপ লক্ষ্য করা যায় তা অত্যন্ত আনন্দের। একবারের জন্য হলেও নাকের কাছে নোটটি চলে আসে। আহ, কী সুন্দর গন্ধ! নতুন টাকা বলে কথা। নতুন টাকা শুধু আত্মীয় স্বজনের জন্যই বেশি দামে কেনা হয় না। বরং ঈদের নামাজ শেষে ভিক্ষা দেয়ার জন্যও নেয়া হয় নতুন টাকা। তার জন্য চাই ১০, ৫ আর ২ টাকার নতুন নোট। ঈদ সালামি, কাজের মানুষের বখশিশ, জাকাত, ফেতরা দিতে লোকজন কিনছেন টাকার নতুন নোট।
নতুন নোট নিতে আসা সরকারি চাকরিজীবি কামরুজ্জামান জার্মান বাংলা২৪ডটকমকে বলেন, ‘‘আসলে ভাই আমরা কিছু টাকা বেশি দিয়ে নতুন টাকা কিনতে আসি। কারণ বাসার ছোটদের, গরিব, পথশিশু ও ভিক্ষুকদের ঈদের আনন্দ দিতে প্রতি ঈদে নতুন টাকা সংগ্রহ করি। তাদের আনন্দ দেখে বেশ ভালো লাগে তাতেই তৃপ্তি।’’
এ চাহিদা মেটাতে রাজধানীর ফুটপাতের ব্যাংকে নতুন টাকার নোট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতাধিক লোক। নতুন টাকা বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে থাকেন তারা।
কথা হয় নতুন টাকা বিক্রেতা আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জার্মান বাংলা২৪ডটকমকে জানান, নতুন টাকা বিক্রি করে যে উপার্জন তা দিয়েই তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। অন্য সময়ে নতুন নোট তেমন বিক্রি হয় না। তাই ঈদ এলেই তারা বাড়তি অর্থ উপার্জন করেন। এভাবে নোট বিক্রির অনুমতি নেই বলতেই তিনি বলেন, কিছু করার নেই। আমরা গরিব মানুষ এতো কিছু বুঝিনা। শুধু বুঝি কিছু নতুন নোট বিক্রি করে পরিবারে হাসি দেখতে পাই। এখন যদি আপনারা বলেন আমরা খুব বেশি অন্যায় করেছি কিছু করার থাকে না। মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী এভাবে টাকা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধেই চলছে নতুন টাকার এ ব্যবসা। তবে এ নিয়ে মাথা ব্যাথাও নেই কারো। খুব অল্প টাকা বেশি নিয়ে ছেড়ে দেন নতুন টাকা। তাতে বেশ খুশি থাকেন বিক্রেতারাও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর গুলিস্তানে ছোট ছোট টুলের ওপর বিভিন্ন মানের নতুন টাকার নোটের বান্ডিল সাজিয়ে ডাকছেন পথচারীদের। অনেকের কাছে এ এলাকা ফুটপাতের ব্যাংক নামে পরিচিত। পথচারী ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই এখানে আসেন নতুন টাকার আকর্ষণে।
দেখা যায় একটু দরদাম কষে নতুন নোট নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন তারা। আর সারা দিন বিক্রি শেষে বাড়তি আয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতা নারী-পুরুষ হকারদের মুখেও হাসি ফোটে।
ঈদে সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে নতুন টাকার এ ব্যবসা। পুরনো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। তারা দৈনিক ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি করেন। স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকাও বিক্রি করতে পারেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব কাছেই মতিঝিলে সেনাকল্যাণ সংস্থার সামনে নতুন টাকা বিক্রির সবচেয়ে বড় অস্থায়ী বাজার গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্তর গেটে, গুলিস্তান হলের সামনে, সদরঘাট, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে নতুন টাকার ব্যবসা।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকা, গুলিস্তান, ফার্মগেট ঘুরে দেখা যায়, জমজমাট হয়ে উঠেছে নতুন টাকার ব্যবসা। এসব স্থানে দুই টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। পাঁচ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকায়। ১০ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ৯০ টাকায়। ২০ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ৫০ টাকার নোটের বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩০০ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, এসব টাকার মধ্যে দুই, পাঁচ ও ১০ টাকার নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।