সম্পাদকীয়: নির্বাচনি প্রচারণার নামে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। সম্প্রতি বরগুনায় এক নির্বাচনী সভায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী ও ডাকসুকে কেন্দ্র করে যে নারী বিদ্বেষী ও উদ্ধত মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীর মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং শিক্ষাঙ্গন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকেও হেয় প্রতিপন্ন করে।
বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার রাজনৈতিক দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই প্রকাশ। ধর্ম বা রাজনীতির কোনো ব্যাখ্যাই নারী অবমাননাকে বৈধতা দিতে পারে না। নির্বাচনের সময় জনসমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ উসকে দেয়, যা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবাদ যথার্থ ও সময়োপযোগী। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে আরও উৎসাহিত হবে। নির্বাচন কমিশনের নীরবতা এখানে গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের ভিত্তি সমতা, সম্মান ও মানবিক মূল্যবোধে। নারীদের অবমাননা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘৃণা নয়, দায়িত্বশীল বক্তব্য ও শালীন আচরণই হওয়া উচিত রাজনীতিকদের প্রধান পরিচয়।