শিরোনাম :
ডেপুটি স্পিকারের সরকারের জবাবদিহিতায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষায় আইনের তাগিদ : আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাষ্ট্রপতি মি অটোমেশন দ্রুত ও নির্ভুল করার তাগিদ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর; পাশে থাকার আশ্বাস ইউএনডিপির অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড আন্তর্জাতিক সংলাপে নগর-উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা: হ্যনানে সফল সমাপ্তি বিশ্ব মেয়র সম্মেলন রোহিঙ্গা উপস্থিতি অর্থনীতি ও পরিবেশে বড় চাপ: কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে নজরুলের দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান: মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’: ইইউ কমিশনারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক সম্পাদকীয়:শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয় সিইসি পদত্যাগের দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা; পাশে থাকার বার্তা রাহুলের

সম্পাদকীয়:জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননা-গণতন্ত্রের মঞ্চে অগ্রহণযোগ্য আচরণ

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

সম্পাদকীয়:দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল-এই অধিবেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিবেশনের শুরুতেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন না করে নিজ নিজ আসনে বসে থাকা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং গভীরভাবে অগ্রহণযোগ্য।

জাতীয় সংগীত কোনো সাধারণ সঙ্গীত নয়। এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং সামষ্টিক গৌরবের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ত্যাগ এবং সংগ্রামের চেতনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সংগীতের প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি সুরে রয়েছে স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া লাখো শহীদের স্মৃতি। তাই জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি একটি জাতির প্রতি, তার ইতিহাসের প্রতি এবং তার ভবিষ্যতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীকী প্রকাশ।

জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানকার প্রতিটি আচরণ দেশের জনগণের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। সেই সংসদের ভেতরেই যদি জাতীয় সংগীতের মতো পবিত্র জাতীয় প্রতীকের প্রতি অবহেলা প্রদর্শিত হয়, তবে তা শুধু সংসদের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না—বরং সমগ্র জাতির অনুভূতিকে আঘাত করে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব কেবল আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের আচরণও জনগণের সামনে একটি আদর্শ স্থাপন করে।
এই ঘটনাকে অনেকেই হয়তো রাজনৈতিক অবস্থান বা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চাইতে পারেন। কিন্তু জাতীয় সংগীত এমন একটি প্রতীক, যা সব রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে। এখানে দল, মত বা আদর্শের ভিন্নতা কোনো অজুহাত হতে পারে না। জাতীয় সংগীতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন মানে স্বাধীনতার চেতনা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদার প্রতিই অবজ্ঞা প্রদর্শন।
গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, এমনকি কঠোর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন একটি সর্বজনীন নৈতিক দায়িত্ব, যা নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি এই মৌলিক শালীনতা রক্ষা না করা হয়, তবে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়েরই ইঙ্গিত দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের উচিত বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকেই মনে রাখতে হবে-জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা কিংবা অন্যান্য জাতীয় প্রতীক কোনো দলের নয়; এগুলো সমগ্র জাতির। এগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের মতোই জনপ্রতিনিধিদেরও অপরিহার্য দায়িত্ব।গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচনে নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপক্বতায় নিহিত। সেই পরিপক্বতার প্রথম শর্তই হলো-জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি নি:শর্ত সম্মান।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD