শিরোনাম :
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড আন্তর্জাতিক সংলাপে নগর-উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা: হ্যনানে সফল সমাপ্তি বিশ্ব মেয়র সম্মেলন রোহিঙ্গা উপস্থিতি অর্থনীতি ও পরিবেশে বড় চাপ: কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে নজরুলের দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান: মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’: ইইউ কমিশনারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক সম্পাদকীয়:শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয় সিইসি পদত্যাগের দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা; পাশে থাকার বার্তা রাহুলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ঘোষণা ট্রাম্পের রিয়াদ বিমানবন্দরে অচলাবস্থা: বিমানের ঢাকা-রিয়াদ রুটের দুটি ফ্লাইট স্থগিত মানবসভ্যতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষাই প্রধান চাবিকাঠি : পেং লি ইউয়ান

মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থা নিরসনে ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ’ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে এই সংঘাত পুরো দুই সপ্তাহ ধরে চলছে, যা গভীর উদ্বেগজনক একটি বৈশ্বিক তেল সংকটের জন্ম দিচ্ছে। চীনের অবস্থান ও পদক্ষেপ দীর্ঘকাল ধরেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে আসছে। পশ্চিমা বয়ানে মাঝে মাঝেই “চীনের উদাসীনতা” বা “চীন ইরানকে পরিত্যাগ করছে”—এমন দাবি তোলা হচ্ছে। এই ধরনের আখ্যান কেবল তথ্যকেই বিকৃত করে না, বরং যারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে চায়, তাদের সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক থাকার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সবসময়ই তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং তারপর দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা—এটিই এখন আঞ্চলিক দেশ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমাজের সম্মিলিত ঐকমত্য। এ কারণেই, সংঘাতের কোনো পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও চীন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা করে আসছে। চীন যেমনটি জোর দিয়ে বলেছে—এই যুদ্ধটি হওয়া উচিত হয়নি; এই যুদ্ধ কারও স্বার্থই রক্ষা করে না।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে চীন যথাক্রমে ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে: রাশিয়া, ওমান, ইরান, ফ্রান্স, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, পাকিস্তান, কাতার ও মিশর। একই সঙ্গে, কূটনৈতিক মধ্যস্থতা পরিচালনার জন্য চীন মধ্যপ্রাচ্যে একজন বিশেষ দূত পাঠিয়েছে। সংঘাত যখন ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের সুযোগ তৈরিতে চীনের এই প্রচেষ্টা আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে ক্রমশ প্রশংসিত হচ্ছে।

চীনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। গত ৮ মার্চ ‘দুই অধিবেশন’ চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পাঁচটি রূপরেখা তুলে ধরেন: জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, শক্তির অপব্যবহার প্রত্যাখ্যান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলোর রাজনৈতিক সমাধানের প্রসার এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা পালন। এই নীতিগুলো উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ থেকেছে। প্রথমত, চীন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করার মৌলিক উপায় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবশ্যই তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চীন হামলার পরিধি সম্প্রসারণকে সমর্থন করে না, বেসামরিক নাগরিক ও অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতেই তুলে নিতে পারে, সে ব্যাপারে সমর্থন জোগায়। তৃতীয়ত, পরিস্থিতি প্রশমন ও শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন তার নিজস্ব উপায়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।
কেউ বলছে যে, চীন “ইরানকে পরিত্যাগ করেছে”, আবার কেউ বলে চীন “ইরানকে রক্ষা করছে।” কেউ দাবি করে চীন এই যুদ্ধ থেকে লাভবান হচ্ছে, আবার কেউ তাকে “পরাজিত” হিসেবে চিত্রিত করে। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এসব আখ্যানের কিছু কিছু আবার একই গণমাধ্যম থেকে আসে। এটি কেবল তাদের গভীরভাবে প্রোথিত ‘স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতাকেই’ উন্মোচিত করে না, বরং তথ্যযুদ্ধের উপাদানগুলোকেও সামনে নিয়ে আসে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল রয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। চীন ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলে শান্তির জন্য কাজ করেছে এবং এর নিরাপত্তা সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পুনর্মিলন অর্জিত হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন ও পুনর্মিলনের এক বৃহত্তর ধারাকে উৎসাহিত করে। ২০২৫ সালে চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ন্যায়বিচারের পক্ষে প্রায় ৩০বার কথা বলেছে। ইরানের পারমাণবিক ইস্যু, ইয়েমেন ও সিরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চীন বারবার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে।

সংঘাতের আগুন যখন ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের এমন একটি পথ প্রয়োজন, যা বর্তমান প্রতিশোধের চক্রের অবসান ঘটাবে এবং সব পক্ষের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোর সমাধান করবে। ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ’ বা বিশ্ব নিরাপত্তা প্রস্তাব সমর্থন করা সাধারণ, ব্যাপক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তার রূপকল্প মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব পক্ষের জন্য একটি মূল্যবান পথ দেখায়। আশা করা যায়, আরও আন্তর্জাতিক পক্ষ যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। এক জটিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে চীন কারও পক্ষ নেয়নি, আবার হাত গুটিয়েও বসে থাকেনি। এর পরিবর্তে চীন শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং একটি ন্যায্য অবস্থান ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে চীন শান্তির জন্য তার প্রচেষ্টা বন্ধ করবে না, এবং ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার কণ্ঠস্বরও স্তব্ধ হবে না। চীন তার নিজস্ব উপায়ে এই যুদ্ধক্লান্ত ভূমিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সূত্র:গ্লোবাল টাইমস সম্পাদকীয় অবলম্বনে
মোহাম্মদ তৌহিদ, সিএমজি বাংলা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD