শিরোনাম :
তরুণ শিল্পীদের সৃজনশীলতা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করায়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, দায়ীদের বিচার হবে: মির্জা ফখরুল দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস, ইকুয়েডরে শুক্রবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ চাইল আইএইএ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজের ওপর টোল বসাতে চায় ইরান, বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭০২ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক, নিরাপত্তা ও অভিবাসন সহযোগিতায় গুরুত্ব জাতিসংঘ ফোরামে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সরকার গঠনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমান

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে আগ্রহ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনটিতে তারেক রহমানকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘Bangladesh’s Prodigal Son’ বা ‘প্রত্যাবর্তনকারী উত্তরাধিকারী’ হিসেবে। টাইম লিখেছে, কণ্ঠস্বর ভাঙা ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে তারেক রহমানের সংকল্প স্পষ্ট। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে নাড়া দিলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি অনড় রয়েছেন।

টাইমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের মানুষের দেওয়া আস্থাই তার রাজনীতিতে থাকার প্রধান প্রেরণা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং দলের সমর্থন ও কর্মীদের দাবিতেই তিনি রাজনীতির অগ্রভাগে এসেছেন।

দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ।

প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শব্দের বিশাল এই প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বিষয়টি তারেক রহমানের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

নীতিগতভাবে তাকে একজন তুলনামূলকভাবে ‘টেকনোক্র্যাটিক’ রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় নতুন সবুজ অঞ্চল তৈরি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে অংশীদারত্ব গঠনের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তার মতে, এসব পরিকল্পনার অন্তত ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতেও পারলে জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী হিসেবে উল্লেখ করে তার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম, সহনশীল ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে—এটাই তার প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে তিনি মন্তব্য করেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে আগামীকাল অন্য কাউকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে বটে, তবে অতীতের বোঝা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সেই আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে তারেক রহমান জনপ্রিয় স্পাইডার-ম্যান সিনেমার একটি সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেন,
‘বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আমি মনেপ্রাণে এটি বিশ্বাস করি।’

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD