স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয় গণচাঁদা তুলে নিজস্ব উদ্যোগেই সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে জানান, এ বিষয়ে সরকার বা কোন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা নেবে না উদীচী।
বিবৃতিতে উদীচীর নেতৃবৃন্দ জানান, ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদীচী কখনোই কোন ধরনের সরকারি সহায়তা বা অনুদানের জন্য নির্ভরশীল ছিল না, আজও নেই। উদীচীর মূল শক্তি সাধারণ মানুষ। তাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণচাঁদা সংগ্রহ করেই উদীচীর বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশেষ কিছু উৎসব বা বড় আয়োজন ছাড়া অন্য কোন সময় বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে না উদীচী। দেশে ও বিদেশে উদীচীর হাজারো শিল্পী-কর্মী তাদের পরিশ্রমের উপার্জন থেকে অনুদান দিয়ে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখেন। এবার ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও উদীচীর শিল্পী-কর্মীরাও মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। উদীচীর নাম করে কেউ আর্থিক সহায়তা চাওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতারিত হন, তার দায়ভার উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ নেবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজ ঘটে। এরপর থেকেই উদীচীর উপর হামলার সরাসরি হুমকি দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টেও উস্কানি দেয়া হয়। তখন থেকেই সবার শঙ্কা ছিল যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তারপরও সেটির নিরাপত্তায় কোন ধরনের ব্যবস্থাই নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার বা প্রশাসন। আর এ কারণেই ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিনা বাধায় অগ্নিসংযোগ করতে পারে মৌলবাদী, অন্ধকারের অপশক্তি। আগুনে উদীচীর ৫৭ বছরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এই হামলা ঠেকাতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তারা বলেন, সরকারের কাছে উদীচীর একটিই প্রত্যাশা আর তা হলো উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত উদীচী এ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন উদীচীর নেতৃবৃন্দ।
যে অপশক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যারা এখানে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ সুগম করতে চায়, তাদের ষড়যন্ত্র এদেশের আপামর জনসাধারণ সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বলে বিবৃতিতে জানান উদীচীর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, যে বৈষম্যমুক্তি এবং সবার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছে, সেই লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে। কোন ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ষড়যন্ত্রে সেটি ব্যর্থ হবে না। দেশের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান উদীচীর বারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।