ঘন কুয়াশা, মেঘলা আকাশ এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে জেলা জুড়ে কনকনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সূর্যের দেখা মিলছে না, ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
হিমশীতল বাতাস ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ শীতের কাছে একরকম অসহায় হয়ে পড়েছেন। সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা। অনেক এলাকায় খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে শীতার্ত মানুষদের।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ছিল সোমবার ১২ দশমিক ৮ এবং মঙ্গলবার ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের তুলনায় আজ তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রিরও বেশি, যা শীতের তীব্রতা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিয়েছে।
শীতের দাপটে কাঁপছে সারা দেশ। দেশের প্রায় ২০টি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি কমেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে সূর্য না ওঠা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি বেড়ে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত এ ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বিভাগভিত্তিক তাপমাত্রার চিত্র অনুযায়ী, রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বগুড়ায় ১২ দশমিক ৫, পাবনায় ১২ দশমিক ২, নাটোরে ১২ দশমিক ৪, সিরাজগঞ্জে ১২ দশমিক ৮ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চট্টগ্রাম বিভাগে তুলনামূলকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৯, কক্সবাজারে ১৫ দশমিক ৬, কুমিল্লায় ১৪ দশমিক ৪, ফেনীতে ১৪, নোয়াখালীতে ১৪ দশমিক ৬, চাঁদপুরে ১৪ দশমিক ৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ দশমিক ৫, রাঙামাটিতে ১৪ দশমিক ৬, খাগড়াছড়িতে ১৫ এবং বান্দরবানে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২, যশোরে ১২ দশমিক ৫, সাতক্ষীরায় ১৩, ঝিনাইদহে ১২ দশমিক ৬, চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৫, মাগুরায় ১২ দশমিক ৫, নড়াইলে ১২ দশমিক ৩ এবং বাগেরহাটে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বরিশাল বিভাগে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ১৩ দশমিক ৫, ভোলায় ১৪ এবং ঝালকাঠিতে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ এবং শ্রীমঙ্গলে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শীতার্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।