ফাতেমা রহমান রুমা: ইন্টারনেটে নির্বাচনী প্রচারনার জন্য বিদেশি দাতাদের অর্থ ব্যবহার নিয়ে জার্মানির এএফডি নেতা আলিস ভাইডেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছেন দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।
সূত্র জানায়, সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের দাতাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ পেয়ে ছিল শরণার্থী ও কট্টর মুসলিমবিরোধী হিসেবে পরিচিত দলটি৷ জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের শহর কন্সটান্সের আইনজীবীরা ১৪ নভেম্বর জানিয়েছেন, উগ্র-ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সংসদীয় গ্রুপের নেতা আলিস ভাইডেল জার্মানির কঠোর দলীয় খরচ আইন অমান্য করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ আইনজীবী আন্দ্রেয়াস মাথি সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন যে তাঁর কার্যালয় ইতোমধ্যে ভাইডেলের সংসদীয় ‘ইমিউনিটি’ প্রত্যাহারে জার্মান সংসদ বুন্ডেসটাগের কাছে চিঠি লিখেছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ১৬ নভেম্বর নাগাদ শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷
ভাইডেলের নির্বাচনি এলাকা লেক কন্সটান্সের আরো কয়েকজন এএফডি নেতার বিরুদ্ধেও তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির আ্ইনজীবীরা। জানা যায়, জার্মান পত্রিকা স্যুডডয়চে সাইটুং এবং সরকারি গণমাধ্যম এনডিআর ও ভেডেআর ১১ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এএফডি’র লেক কন্সটান্স শাখা ২০১৭ সালের সংসদীয় নির্বাচনের আগে প্রচারণা চালানোর জন্য দান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানির কাছ থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার ইউরো পেয়েছিল৷
জার্মানির রাজনৈতিক দলের অর্থ খরচের যে আইন রয়েছে, তার যেন ব্যতয় না ঘটে, সেজন্য এই অর্থ আঠারো ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদাভাবে দলটিকে দেয়া হয়েছিল৷ দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার ক্ষেত্রে জার্মান রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নিয়মকানুন মানতে হয়৷ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে অর্থ সংগ্রহ করলে সেটা ঘোষণা দিতে হয়, যাতে সবাই জানে যে দলটি কোথা থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অর্থ পাচ্ছে৷ ভাইডেলের দল অবশ্য তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করছে৷ দলটির সহ-দলনেতা আলেক্সান্ডার গাউল্যান্ড বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি না এ জন্য ভাইডেলকে দোষ দেয়ার কিছু আছে৷’’ বরং এক্ষেত্রে দলের কোষাধ্যক্ষের ভুল দেখছেন তিনি, কারণ, কোষাধ্যক্ষই নির্বাচনী অর্থ দেখাশোনা করছিলেন৷