মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সমুদ্রপথে যাত্রা করা দুটি নৌকার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের দুটি সংস্থা জানিয়েছে, এসব নৌকায় থাকা ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের উপকূল এলাকায় দুটি নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলোর বিস্তারিত এখনো যাচাই করা সম্ভব না হলেও সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ২৮০ জন আরোহী ছিলেন। প্রথম নৌকাটির সঙ্গে যাত্রার পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। দ্বিতীয় নৌকাটি ৮ জুলাই ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৌকাগুলোতে থাকা বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটের কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বসবাস করছেন।
জাতিসংঘের সংস্থা দুটি বলেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে বহু মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। নতুন এই ঘটনা নিশ্চিত হলে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে মানবপাচারকারী চক্র। তারা উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় মানুষকে উৎসাহিত করে।
এএফপি জানিয়েছে, প্রতিবছর বহু রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। এসব যাত্রায় ব্যবহৃত অনেক নৌকা থাকে পুরোনো ও অনিরাপদ।
ইউএনএইচসিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করা ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মিয়ানমারে সংঘাত বৃদ্ধি, মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে সীমিত সুযোগ-সুবিধা মানুষকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সংস্থা দুটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান বাড়ানো, আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে জাতিসংঘের সংস্থা দুটি বলেছে, শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তাদের মতে, শুধু জরুরি সহায়তা নয়, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ সমাধান করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।
সূত্র: আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ বিবৃতি, এএফপি ও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট তথ্য