মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় আদালতের রায়ে নির্ধারিত ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছেন লেখিকা ই জিন ক্যারল। মূল ক্ষতিপূরণের সঙ্গে জমা হওয়া সুদ মিলিয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) বিশেষ এসক্রো (Escrow) অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ তাদের মক্কেল বুঝে পেয়েছেন। এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে ৮২ বছর বয়সী লেখিকা নিজেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একটি লেখায় তিনি রসাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, “The Eagle Has Landed”, অর্থাৎ বহু প্রতীক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জুরি ট্রাম্পকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই অর্থটি একটি বিশেষ এসক্রো অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার পর ফেডারেল বিচারক লুইস এ. কাপলান অর্থ অবমুক্ত করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
অর্থ প্রদান স্থগিত রাখতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে জরুরি আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। তবে ট্রাম্পের আইনি দল জানিয়েছে, তারা এখনও এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং নতুন করে আপিলও করেছে।
ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ তিনি তার অবসরকালীন তহবিলে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা করছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ই জিন ক্যারল। পরে ২০১৯ সালে নিজের স্মৃতিকথায় এ ঘটনা প্রকাশ করলে ট্রাম্প অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ক্যারলের বক্তব্য মিথ্যা এবং তিনি তার পরিচিত বা পছন্দের কেউ নন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংশোধিত আইনের আওতায় পুরোনো যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করার সুযোগ পেয়ে ক্যারল আদালতের শরণাপন্ন হন। বিচার চলাকালে ট্রাম্প মূল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, ২০২৪ সালে পৃথক আরেকটি মানহানি মামলায় ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের (৮৩ মিলিয়ন) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: এপি।