বাংলাদেশের অভিজ্ঞ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই নিয়োগ অনুমোদন করেছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন রাবাব ফাতিমা। একই সঙ্গে বিদায়ী প্রধানের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুতেরেস। এছাড়া ইউএনএএমএর ভারপ্রাপ্ত প্রধান জর্জেট গ্যাগননের ভূমিকাকেও তিনি প্রশংসা করেন।
বর্তমানে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘে আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি আফগানিস্তানে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, মানবিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাবাব ফাতিমার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক ও সরকারি অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ইউনিসেফ এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।
এছাড়া ২০২২ সালে তিনি জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় আফগানিস্তানে ইউএনএএমএর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রধান হিসেবে রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে দেশটিতে জাতিসংঘের কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।