দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগণের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজ জেলাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার প্রয়োজন কমিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং চিকিৎসাসেবার গুণগত মানও বৃদ্ধি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী সিনিয়র চিকিৎসকদের প্রতি প্রান্তিক এলাকায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষ চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসূতি সেবার উন্নয়নে সরকার ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সূত্র: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য।