জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণকে কেবল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনিয়মিত বর্ষণ, তীব্র তাপপ্রবাহ, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এসব প্রভাব কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্র—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
সেমিনারে বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে পরিবেশ দিবস আয়োজক কমিটির পক্ষে যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সুমন স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ আহমেদ। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, অভিযোজন কৌশল এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়