দ্বিতীয় কর্ম অধিবেশনে বাস্তব কাজের ধারা পদ্ধতি (ফৌজদারি অপরাধ) এবং সরকারের সাথে যৌথ কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করেন সহকারী পরিচালক(লিগ্যাল এ্যাডভোকেসি ও লবি) অ্যাড. ফাতেমা খাতুন। নথিপত্র সংরক্ষণ এবং রিপোর্টিং বিষয়ে আলোচনা করেন উপপরিচালক (লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি) অ্যাড. রামলাল রাহা। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে জেলাশাখা থেকে আগত নেত্রীবৃন্দের অংশগ্রহণে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ০৬ টি বিষয়ের উপর দলীয় কাজ অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কাজ পরিচালনা করেন লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি শিকদার। দলীয় কাজ শেষে তৃতীয় অধিবেশনে দলীয় কাজ উপস্থাপন করেন জেলাশাখার নেত্রীবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাহানা কবির বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মধ্যস্থতা বা সালিশী কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কর্মশালা থেকে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা জেলা শাখার নেত্রীবৃন্দ তাদের নিজ জেলার কার্যক্রমে ব্যবহার করবেন। তিনি আইনগত সহায়তার ক্ষেত্রে সকলকে হালনাগাদ আইনী বিষয় ও তথ্য জানার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী-পুরষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর মানবাধিকার রক্ষায় নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা আমাদের অন্যতম কাজ। জাতিসংঘের বৈশি^ক কর্মসূচীর ক্ষেত্রেও নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিকে সমঅধিক জোর দেয়া হয়েছে। তিনি এসময় নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন সদস্যরাষ্ট্রগুলো নারীর প্রতি যেকোন ধরণের সহিংস আচরণ (শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং যেকোনো সহিংস আচরণ) প্রতিরোধ ও প্রতিকারে পদক্ষেপ নিবে। কিন্তু বাসÍবে তেমন হচ্ছে না, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এডিআর বা সালিশের মাধ্যমে এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধোনের চেষ্টা করা হয়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সহিংসতা বন্ধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি এসময় বলেন আদালতের দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল পথ থেকে মানুষকে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে পারিবারিক বিষয়ে আইনী সমাধান দেয়ার ক্ষেত্রে সালিশ কার্যক্রম পরিচালনা ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তার জন্মলগ্ন থেকে সালিশী কার্যক্রম শুরু করেছে যা এখন অনেক সংগঠনই করছে। কাজেই পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সালিশী কার্যক্রমকে বাস্তবিকভাবে একটি গঠনমূলক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় পরিচালনার জন্য আজকের কর্মশালা-বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বলেন, পারিবারিক বিষয়ে সালিশী কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারকে আইনগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সালিশের মাধ্যমে দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সরকারি লিগ্যাল এইড ও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সালিশ পরিচালনার কাজ করলেও যথাযথ ডকুমেন্টেশন হচ্ছেনা। তিনি এসময় সালিশ পরিচালনার ক্ষেত্রে দালিলিক কাজ, অভিযোগ গ্রহণ, আইনী কাঠামোর মধ্যে সালিশের সিদ্ধান্ত লিখিত করা, দেনমোহর আদায় করে আবেদনকারীকে প্রদানের লক্ষ্যে সঠিক নিয়ম অনুসরণ, রশিদের প্রদান; সালিশী নীতিমালার যথাযথ নয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন; নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে পারিবারিকভাবে কথা বলা বা সচেতন করার বিষয়টি আলোচনা করা দরকার। আমরা উপলব্ধি করছি নারীর মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের আরো কর্মশালা দরকার।
উক্ত কর্মশালায় ৫৭ টি জেলা শাখা থেকে ১১৪ জন নেত্রীবৃন্দসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী ও কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার অধিবেশনসমূহ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড অফিসার সিননোমে মারমা এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন।