শিরোনাম :
সন্ধ্যা নামে যে হেথা লন্ডনের উপকণ্ঠে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত চালক – আহত ৮৯ নাইজারের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ৩৫ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রশাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বৈশ্বিক প্রশাসন উন্নয়নে চীনের উদ্যোগ: আগ্রহী আন্তর্জাতিক সমাজ জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা জোরদারে চীনের আহ্বান প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে গড়ে উঠবে ম্যাথ ল্যাব তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর দুর্যোগ প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে আইআরসির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে আগ্রহ বাংলাদেশের

সম্পাদকীয় : নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার উত্থান-রাষ্ট্রের জরুরি সতর্কবার্তা

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

সম্পাদকীয়: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতার বেড়ে চলা গতিপ্রকৃতি যে শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সম্প্রতি খুলনায় প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড তার ভয়াবহ উদাহরণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন এ ধরনের নৃশংস ঘটনা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করবে।

মানবাধিকার সংস্থা এনএসএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতার যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে। অক্টোবর মাসে যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪৯টি, সেখানে নভেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২-এ। আহতের সংখ্যা ৫৪৭ থেকে বেড়ে ৭২৪ এবং নিহতের সংখ্যা ২ থেকে ৯—এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে ঘাটতির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। মাসে মাসে সহিংসতার এই ঊর্ধ্বগতি ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ক্ষমতার প্রতিযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা মিলেমিশে সমাজে এক অস্থিরতা, ভীতি এবং সংঘাতের সংস্কৃতি তৈরি করছে।

নির্বাচন-ঘনিয়ে আসলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সহিংসতা বাড়া কখনোই স্বাভাবিক নয়। মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু নির্বাচনকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে না, বরং গণতান্ত্রিক চর্চাকেও দুর্বল করবে। নির্বাচন যতই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক, তা কখনোই রক্তাক্ত হওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে না।

সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে সহিংসতার বিস্তার শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই লাভজনক নয়। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ, সহিংসতার উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা।

দেশবাসী শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচন চায়। রাজনৈতিক সহিংসতা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশও বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। সময় এখনই রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীলতার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিতে হবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD