তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে তিস্তা অববাহিকার জনগণ দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ সুফল পায়।
শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটে তিস্তা নদী পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের উপকার নিশ্চিত করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। এজন্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের মূল্যায়ন চলছে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং খাল খনন কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মতো প্রয়োজন হলে তিস্তা প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা নীলফামারী জেলার চাঁদেরহাট, কচুকাটা, টেংগন নদী, জলঢাকা ও দেওনাই এলাকা এবং লালমনিরহাট জেলার চাড়ালকাটা নদী, রাজারহাট, ধানজাই ও তিস্তা প্রধান সেচ খাল পরিদর্শন করেন।
এ সময় পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।