ফাতেমা রহমান রুমা: জ্ঞান-বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বিশ্বের দরবারে ইউরোপের দেশ জার্মানি অবিশ্বাস্য সফলতা অর্জন করলেও গত ১০০ বছরে দেশটিতে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ডয়েচে ভেলের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০০ বছর আগে জার্মানিতে নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছেন, কিন্তু সমান অধিকার পাননি তারা৷ গত বছর দেশটিতে এক লাখেরও বেশি নারী তাঁদের পার্টনার দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন৷ জীবনও দিতে হয়েছে বহু নারীকে৷ নারী-পুরুষ বৈষম্যের এমনি কয়েকটি উদাহরণ নিচে উল্লেখ করা হলো-
(১)
পারিবারিক সহিংসতায় গত বছর জার্মানিতে মোট ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন তাঁদের সাবেক পার্টনার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন৷ আর তাঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৬৫জনই ছিলেন নারী৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে ১৪৭ জনকে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে৷
(২)
স্কুল এবং প্রশিক্ষণে মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে, তারপরও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি এখনো৷ এক হিসেব বলছে, জার্মানিতে পড়াশোনা করতে ভালোবাসে শতকরা ৪৫.১% ছেলে, আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তা শতকরা ৭২. ৫%৷
(৩)
দেশটিতে হাই স্কুল গ্যাজুয়েট-এর ক্ষেত্রে নর্থরাইন ওয়েস্ট ফেলিয়া রাজ্যে শতকরা ৪৫ ভাগ ছেলে আবিট্যুর বা হাই স্কুল গ্যাজুয়েট করে৷ মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৫৫ ভাগ৷
(৪)
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে শতকরা ২৭ ভাগ ছেলে৷ এখানে মেয়েরা শতকরা ৩২ ভাগ,অর্থাৎ উচ্চশিক্ষায়ও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে৷
(৫)
চাকরির ক্ষেত্রে বেতন বৈষম্যের শিকার হন দেশটিতে নারীরা। নারী এবং পুরুষ একই কাজ করলেও পুরুষকর্মীকে নারীর চেয়ে শতকরা ২১ ভাগ বেশি বেতন দেওয়া হয়।
(৬)
প্রতিষ্ঠানে প্রধান কর্তা বা ‘বস’ হিসেবে পুরুষরাই এগিয়ে। যদিও জার্মানিতে শতকরা ৪৬ ভাগ নারী চাকরিজীবী৷ তবে লিডিং পজিশন বা ‘বস’ হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষরাই প্রাধান্য পেয়ে থাকেন৷ এ ক্ষেত্রে লাটভিয়ার নারীরা এক নম্বরে৷ সেখানে শতকরা ৪৪.৩ ভাগ লিডিং পজিশনে নারী৷ সুইডেন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে৷ওই তালিকায় জার্মানি রয়েছে ৯ নম্বরে৷ এ দেশের কর্মক্ষেত্রে শতকরা ২৯.৩ ভাগ নেতৃত্বস্থানীয় পদে রয়েছে নারী৷
(৭)
জার্মানিতে অনেক রাজনীতিকই সমঅধিকার নিয়ে কথা বলেন, তবে বাস্তব পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। চাকরি, জীবনসঙ্গী, সেনাবাহিনী এবং সিভিল সুরক্ষার মতো নানা ক্ষেত্রে নারীর আইনি অধিকার থাকলেও জার্মান নারীরা এখনো তাঁদের পূর্ণ অধিকার চর্চার সুযোগ পায়নি৷