জনগণ বিএনপিকে প্রতিহত করবে —কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
গুপ্ত হামলা বন্ধ করুন তা না হলে জনগণ আপনাদের ধরে ধরে বিচার করবে। আপনাদের প্রতিহত করবে,আপনারা গণশাস্তির জন্য অপেক্ষা করুন। জনগণই আপনাদের প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমণ্ডি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা,জীবনে আপোষ করেনাই বঙ্গবন্ধু,বঙ্গবন্ধুর কন্যার আপোষ শব্দটি তার অভিধানে নেই। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো,আপনাদের এই আগুন সন্ত্রাস বন্ধ করুন। পাব্লিক নির্বাচন চাই,আপনারা নির্বাচন বন্ধ করতে চান,সে খায়েস আপনাদের পুর্ণ হবেনা।
কাদের আরও বলেন, পলাতক দল এখন অসহযোগ আন্দোলন করে, যে দল আন্দোলনে মাঠের থেকে পালিয়ে গেলো এখন সেই দল অসহযোগ আন্দোলন করবে তাদের ডাকে জনগণ অসহযোগ করবে,জনগণ তাদের বিরুদ্ধেই অসহযোগ শুরু করেছে। বিএনপ-জামায়াত নির্বাচন বিরোধী,তাদের বিরুদ্ধে জনগণের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছে । তার প্রমাণ বাংলাদেশে হাটবাজারে যান,রাস্তাঘাটে যান,দোকানপাটে যান জীবনযাত্রা স্বাভাবিক।এর অর্থ কি? বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। এর অর্থ কি বিএনপি যতই নির্বাচন বিরোধী গুপ্ত সন্ত্রাস করছে অগ্নি সন্ত্রাস করছে, বাসে,রেলে আগুন দিচ্ছে ফিসপ্লেট তুলে ফেলছে ততই জনগণের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যার যার কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি স্বাভাবিক। মানুষ আজকে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে এবং আমরা বিশ্বাস করি,গতকালও সিলেটে গিয়ে অবস্থা দেখেছি, বিএনপিকে মানুষ অসহযোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, যারা আন্দোলন করতে গিয়ে পালিয়ে গেছে মনে আছে কত বড় উচ গলায় এই বিএনপির নেতারা বলতেন,শেখ হাসিনা পালিয়ে যাচ্ছে,তার মন্ত্রীরা পালিয়ে যাচ্ছে,আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাচ্ছে,এমনকি পালাবার জন্য কোন অলিগলিও খুঁজে পাবেনা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো পল্টনে ২৮ তারিখে কি যে দৌড়, কি দৌড় বিএনপি নেতাদের। এখানে গিয়ে পড়ে,ওখানে গিয়ে পড়ে একজন তো গিয়ে একটা দোকানে ঢুকলো, দোকানের মালিক বলে কি হয়েছে, সে বলে আওয়ামী লীগের গোন্ডারা আমাকে ধাওয়া করেছে, দোকানি বলে আমিও তো আওয়ামী লীগ করি,গোন্ডা বলছেন কাকে। এই হচ্ছে ওদের অবস্থা।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, একজন তারেক রহমান তিনি টেমস নদীর ওপার থেকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন, আরে সাহস থাকে তো আসুন,অসহযোগ নেতৃত্ব নেতা তো নেই,তো নেতার তো আসতে হবে। রিমোর্ট কন্টোলে পলাতক নেতা কি করে নেতৃত্ব দেবে। এখানে আসতে হবে। মানুষকে মোকাবেলা করেন,রাজপথে আসুন,জেলে যাওয়ার সাহস অর্জন করুন, তা না হলে জীবনেও নেতা হতে পারবেন না। রিমোট কন্ট্রোল নেতাকে জনগণ কখনো মানেনা।জনগণের আস্থা কোনদিনও এই নেতা পায়না যদি পেতো তাহলে তাদের সেই ২৮ তারিখের ডাকে সাড়া দিতো। ১০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া দেশ চালাচ্ছে ১১ ডিসেম্বর তারেক জিয়া বিদেশ থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে চলে আসছে এইসব কত অবান্তর গুজবে দিন চলে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে গেছে৷ সেই গুজব গুঞ্জন এখনো চলছে। আমরা এসবে বিশ্বাস করিনা আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং অনড় শক্তিশালী অবস্থানে আমরা পাহাড়ের মতো আছি,থাকবো অবিচল হিমালয়ান মতো অবিচল। আমাদের অবস্থান শক্ত শক্তিশালী। আমরাও বলবো অসহযোগ ডাকবেন,ট্যাক্স যার বাকী ট্যাক্স আদায় করবো। কতৃপক্ষকে বলবো ট্যাক্স আদায় করেন যাদের ট্যাক্স বাকী,যাদের বিল বাকী। তাদের বিল আদায় করুন,ব্যাংকে যারা লোন নিয়ে পাচার করেছে এদেরকে তালিকা প্রস্তুত করুন,এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাড়িভাড়া বাকী, কার কার বাড়ি আদায় করতে বলছি এদেরকে আর কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা। ট্যাক্স ফাকি দিয়েছে যারা তাদের ট্যাএক্স আদায় করতে হবে সাজাও দিতে হবে। আমরাও পথে আছি,ইলেকশন হবে। ইলেকশন হলে নাকি ৫ দিনও টিকবে না,মইন খান আজব এক স্বপ্ন দেখেছে। ইনশাআল্লাহ ৫ বছরই টিকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক চাপা শামসুন্নাহার, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এসএসকে