শিরোনাম :
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসছে প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপ, লড়বে ১৯ দল দুই বছরে ৪ বার অবমাননার শিকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য:ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সংস্কার কার্যক্রমে স্থবিরতা বঙ্গোপসাগরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন লঘুচাপের শঙ্কা, পাঁচ দিন পর বৃষ্টির আভাস মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্র বানানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর; সুন্দরবন উপকূল পরিদর্শনে দিনভর তৎপরতা আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি, তবু মৌলিক অধিকার ও দেওয়ানি বিচারে বড় ধাক্কা ৩১ কোটি বই ছাপার মহাযজ্ঞ: নতুন শিক্ষাক্রম ও ৪ বইয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় এনসিটিবি প্রথম ফুটবলার হিসেবে স্পেনের ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ সম্মাননা নিচ্ছেন মেসি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় সম্মতি পুতিনের ভবিষ্যতে বিক্ষোভ না করার মুচলেকায় ৭ দিন পর মুক্তি পেলেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে চীন-রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলন

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষকে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও সময়সূচি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদপন্থী অংশের মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ইজতেমার মাঠ ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে সাদপন্থী অনুসারীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার কথা ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকের বৈঠকে সাদপন্থী প্রতিনিধিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টঙ্গী ময়দানে তাদের অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগের সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া কেন্দ্র ও জেলা-ভিত্তিক সংকলিত তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার উদাহরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৮ আগস্ট ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা, সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে অনুরূপ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলীগ জামাতের জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD