জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আজকের উদ্যোগই আগামী দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বিলম্ব না করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবুজ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করেছে। একই সঙ্গে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি ৩.০ প্রণয়নের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতেও সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে পলিথিনের ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, এটি চরম বাস্তবতা। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের ভয়াবহ বন্যার ঘটনাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে এ ধরনের ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশেও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু এলাকাতেই নয়, পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও বন্যা দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনের অংশ হিসেবে আগাম সতর্কতা জারি করা হলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও অর্থ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাঁদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়