দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে দলের প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আইপিইউ সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপ। নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যান্ডা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। এতে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি। এ সময় আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’
বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়