আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘আইসিএপিপি’ (ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস)-এর ত্রয়োদশ সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে সদস্য দলগুলোর সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই এশীয় অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি, টেকসই স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে আইসিএপিপি আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের হোটেল শিলার ডাইনেস্টি হলে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও সমাপনী প্ল্যানারি অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, তাঁকে ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা এবং শেষ প্ল্যানারির সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা শুধু ব্যক্তিগত কোনো সাফল্য নয়; বরং এটি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের গভীর পারস্পরিক আস্থা, মৈত্রী ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
সম্মেলনের ফলাফল ও সিউল ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের গঠনমূলক চিন্তা, প্রস্তাব এবং পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র তৈরি সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার অভিন্ন প্রত্যয় মূর্ত হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘সিউল ঘোষণা’য় উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব রূপান্তরের এই সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, দায়বদ্ধ জাতীয় নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং ভৌগোলিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া জরুরি। এছাড়া নাগরিক, সংসদ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ ভূমিকা ও যৌথ দায়বদ্ধতার বিষয়টিও এতে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আইসিএপিপি-কে একটি উদার ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও মানবকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় ঘোষণায়।
সমাপনী দিনে বিএনপি প্রতিনিধি দলের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যৌথভাবে আইসিএপিপির শীর্ষ নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন। আইসিএপিপির চেয়ারম্যান চুং জং-সেক, মহাসচিব ওহ সং, ভাইস চেয়ারম্যান মুশাহিদ সাঈদ এবং যৌথ আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টির নেতা কিম মিন-সক ও প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রধান জাং ডং-হিয়কের হাতে এই স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া হয়।
সম্মেলনের শেষ প্ল্যানারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৯ জন শীর্ষ প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। এছাড়া পূর্ববর্তী দুটি প্ল্যানারিতে বক্তব্য দেওয়া ৩১ জন প্রতিনিধির মধ্যে বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ সজল এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মমতাজ উদ্দিনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার মূল দুই রাজনৈতিক দলের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সাধারণ অধিবেশন এশিয়ার রাজনৈতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক বোঝাপড়া জোরদারে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
তথ্যসূত্র: দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ সম্মেলন ও সমাপনী প্ল্যানারি সেশনের কার্যবিবরণী।