শিরোনাম :
করাচির দুই হাসপাতালে শতাধিক শিশুর এইচআইভি শনাক্ত, নীরব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপের মুখে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, বললেন ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই অগ্রাধিকার’ ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, স্পেনে প্রথম জাতীয় জরুরি অবস্থা দক্ষিণ চীন সাগরে বহিরাগত হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ চীন-আসিয়ান বৈঠকে চার দফা সহযোগিতা প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনা নয়, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগে সিজেপির কঠোর বার্তা কুয়েত ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শেষ হলো জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ১,১৩৭ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে স্পিকারের সংবাদ সম্মেলন আজ

সম্পাদকীয় : নেতৃত্বের নতুন ভোর-রাজনৈতিক পথে তারেক রহমানের উত্থান

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সম্পাদকীয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। দীর্ঘসময় নানা প্রতিকূলতা, সাংগঠনিক স্থবিরতা এবং জনমুখী রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বিএনপির জন্য এবারের ফল বড় অর্জন। আর এ অর্জনের কেন্দ্রে আছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান—যাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বহু বছরের সংকট কাটিয়ে নতুন গতিপথ খুঁজে পেয়েছে।

দলের জন্ম থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিএনপির পথচলা বহু বাঁক পেরিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে ধারা সূচনা করেছিলেন, পরে বেগম খালেদা জিয়া তা এগিয়ে নেন। তাঁদের উত্তরাধিকারের পর দলের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থেকেও রাজনৈতিক যোগাযোগ, দল পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনের আগে সেই প্রস্তুতির পরিণতিই দেখা গেছে দলের সংগঠিত অবস্থানে।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা—কারাবাস, চিকিৎসা, মাকে হারানোর বেদনা—সবকিছুর মাঝেও তিনি দলকে নতুন কাঠামোতে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্কতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোরতা এবং দলীয় আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়াস—এসবই তাঁকে ঘিরে নতুন নেতৃত্বের ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রথমবার প্রত্যক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন তাঁর প্রতি জনসমর্থনের পরিধি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণের কাছে তিনি যে নীতি, উন্নয়ন ধারণা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন, তা তরুণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ সাড়া ফেলেছে।

বিএনপির ঘোষিত উন্নয়ন চিন্তাধারায় কৃষক থেকে শুরু করে নিম্নআয়ের মানুষ—সব শ্রেণির জন্যই কিছু না কিছু প্রস্তাব ছিল। স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি সহায়তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ডিজিটাল সামাজিক সুরক্ষা—এসব পরিকল্পনা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নতুন আখ্যান তৈরি করেছে।

এ ছাড়া মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মানুষজনের সমস্যা সমাধানে দ্রুত সাড়া দেওয়া তাঁর নেতৃত্বের আরেক দিক। দলীয় উদ্যোগে সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এমনকি প্রাণীসেবায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে এই সাফল্যের পর সামনে রয়েছে আরও বড় দায়িত্ব। প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করা খুব সহজ চ্যালেঞ্জ নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক কাঠামোর চাপ, প্রশাসনিক সংস্কার—সব মিলিয়ে তাঁর সামনে কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে। এ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ দেশের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলবে।

নতুন নির্বাচনের ফল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই নতুন অধ্যায় সামনের দিনে গণতন্ত্রের বিকাশ, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন মডেল গঠনে কতটা ভূমিকা রাখবে—এখন তা-ই পর্যবেক্ষণের বিষয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD