ভারতের নিট-ইউজি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, দেশের ঐক্য বজায় রাখা এবং পরিস্থিতির অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে জানান, পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের নৈতিক দায় তিনি নিজের ওপর নিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন কোনো অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা যেন আরও জটিল রূপ না নেয়, সে কারণেই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযোগের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিশেষ করে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিতর্ক চলাকালে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, দেশের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
চিঠির মাধ্যমে দেশের তরুণদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা যেন বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে সিদ্ধান্ত না নেন এবং নিজেদের শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের দিকে মনোযোগ দেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।