পাকিস্তানের করাচিতে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ শহরের ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি লান্ধি হাসপাতালে’ অন্তত ১৫ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর কয়েক মাস আগে একই শহরের ‘কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতালে’ প্রায় ১০০ শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লান্ধি হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৪ মাস থেকে ৮ বছরের মধ্যে। হাসপাতালের নথি অনুসারে, জানুয়ারিতে চারজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে পাঁচজন এবং মে মাসে তিনজন শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংক্রমণের ঘটনাগুলো দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে এ সময়ে আরও অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি গোপন রাখার কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।
এর আগে কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতালে প্রায় ১০০ শিশুর এইচআইভি শনাক্ত হয়েছিল। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই শহরের দুটি হাসপাতালে অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন ঘটনা ঘটায় সংক্রমণের কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক কলঙ্ক ও লোকলজ্জার কারণে আক্রান্ত শিশুদের অনেক অভিভাবক বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে অনিচ্ছুক। এতে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে, চিকিৎসা ব্যয়ের ভার বহন করতে না পেরে আক্রান্ত এক শিশুর বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্য তার নেই এবং সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে শিশুদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা সামনে এলেও পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সংক্রমণের উৎস, সম্ভাব্য কারণ কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।