রেজাউল করিম বিপ্লব, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: নানা অনিয়ম, গ্রুপিং আর জালিয়াতিতে নিমজ্জিত হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী উচাখিলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটিতে কলেজ সংযুক্তির পর থেকেই দিন দিন খাদের কিনারার দিকেই যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি উচাখিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উচাখিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এখন জালিয়াতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সমাজের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাবশালীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের সুমান নষ্ট করছে।
সূত্র জানায়, উচাখিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির নির্বাচনে সাধারণ অভিভাবকরা যাতে সঠিকভাবে ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম ভোটার তালিকা বাংলায় প্রকাশ না করে করেছেন ইংরেজিতে। নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেন এমন অনেক অভিভাবকদেরও বাদ দিয়েছেন তিনি। জালিয়াতির লক্ষ্যে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে মৃত ব্যক্তিকেও।
চরআলগী গ্রামের অভিভাবক কাজল আক্তার বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তবে ১৪ বছর পূর্বে তার মৃত স্বামী শামছুল হককে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত ভোটার হিসেবে বাদ দেয়া হয়েছে কাজল আক্তারকে। ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি একই গ্রামের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহবুব আলম লিটনকে। যদিও নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কথা। সে কাজ করেননি অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম।
এসব নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে গভর্নিং বডির নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল চেয়ে কাজী মোশাররফ হোসেনসহ ৫ জন বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা করেছেন। আদালত থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ, সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতা, বিদ্যালয় পরিদর্শক, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ময়মনসিংহকে ১৪ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নিদের্শ দিয়েছে।
নোটিশ নিষ্পত্তির অাগেই আজ শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনী প্রচারণা করছেন দুই প্রার্থী নূরুল হক ও হেলাল উদ্দিন। প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনের বিষয়ে মোবাইলে কথা বললে তারা জানান, ’অধ্যক্ষ সাহেব নির্বিগ্নে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যেতে বলেছেন। মামলা কোন বিষয় নয়।’
এ বিষয়ে উচাখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খাঁন সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছেন। যেখানে হাইকোর্টে নির্দেশনা রয়েছে সকল স্তরে বাংলা লিখার। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তারপর সে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই ইংরেজিতে এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইংরেজিতে ভোটার তালিকা করেছেন। যা খুবই দু:ক জনক গর্হিত কাজ। এ ধরণের ক্রটিপূর্ণ অনিয়মের মাঝে নির্বাচন করায় এলাকার মানুষের মাধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাছাড়া আদালতের শোকজ জারির পরও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়াটা আইনের অবমানা বলে মন্তব্য করেন তিনি।