সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন গ্রেডের ক্রম, পদোন্নতি এবং উচ্চতর স্কেল নিয়ে সৃষ্ট নানামুখী জটিলতা ও অসংগতি নিরসনে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। কর্মচারীদের যাবতীয় অভিযোগ বিশদভাবে পর্যালোচনা করে বিভিন্ন পদের বেতন গ্রেড পুনর্বিন্যাস, নতুন ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের বিষয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশ প্রদান করবে এই কমিটি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড–ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন–পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি’। কোনো কোনো পদের বেতন গ্রেড বৃদ্ধি বা হ্রাস, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যকার ব্যবধানে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষেত্রবিশেষে নতুন ভাতা চালুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করবে এই ফোরাম। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কমিটির অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে জমা পড়া অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে নিষ্পত্তির কার্যকর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে কমিটি। কমিটিকে সার্বিক সহায়তা দেবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং জনপ্রশাসনসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ সচিবেরাও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন।
অর্থ বিভাগ এই পর্যালোচনা কমিটিকে সাচিবিক দায়িত্ব প্রদান করবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটিতে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে কমিটি কত দিনের মধ্যে সুপারিশ পেশ করবে কিংবা তা কার্যকরের সময়সীমা কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য ও অসংগতি পুরোপুরি নিরসন হতে কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতে পারে।
মূলত সরকারি চাকরিতে সমদায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও গ্রেডের পার্থক্য, পদমর্যাদার সঙ্গে আর্থিক সুবিধার অমিল এবং পদোন্নতির পর মূল বেতন কমে যাওয়ার মতো অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার পর তা আরও প্রকট রূপ ধারণ করে। ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক দপ্তরের কর্মচারীরা জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতার বৈষম্য তুলে ধরে অর্থসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে একটি বড় অসংগতির দৃষ্টান্ত হিসেবে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের হিসাব তুলে ধরা হয়। যেখানে নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, পূর্ববর্তী বেতন সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট)-এর পর বাস্তব হিসাবে বিপরীত চিত্র তৈরি হচ্ছে। এসব অসঙ্গতি দূর করাই এখন গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির মূল দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন ও দৈনিক প্রথম আলো।