জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ম্যালেরিয়ার বিরল সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বিক নজরদারি বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের (গেসুন্ডহাইটসআমট) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত এবং বাকি দুজন বিমানবন্দরসংলগ্ন শভানহাইম (Schwanheim) এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ও শরৎকালজুড়ে শনাক্ত হওয়া এসব রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান।
সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধানে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্ত এবং গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত জেনেটিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আগত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে সংক্রমিত ‘অ্যানোফিলিস’ মশা ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবেশ করেছিল। এর ফলে অন্তত তিনটি পৃথক সংক্রমণ-ঘটনা (ট্রান্সমিশন ইভেন্ট) ঘটে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া’ বা লাগেজ ম্যালেরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। ম্যালেরিয়া কোনো সংক্রামক বা স্পর্শজনিত রোগ নয়; এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, কেবল সংক্রমিত অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমেই মানবদেহে প্রবেশ করে।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দর বা এর আশপাশের এলাকায় কর্মরত ও বসবাসকারীদের মধ্যে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।