শিরোনাম :
ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে: এলজিআরডি মন্ত্রী পানি সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা জরুরি নেপালে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা, দেশজুড়ে বিক্ষোভ; কঠোর আইনের দাবি চীনের বাজার সম্পদভিত্তিক দেশগুলোর অর্থনীতিতে সহায়তা করছে: জরিপ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের উদ্যোগ ফ্রাঙ্কফুর্টে বাঙালির মিলনমেলা: ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য অভিষেক ইয়াসমিন হত্যা দিবস :ধর্ষণের পর হত্যায় ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, সাত মাসেই নিহত ৫৮ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম নিলামে গান্ধীর ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি, দাম উঠল ২০ কোটির বেশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সার্ক-বিমসটেককে সক্রিয় করার তাগিদ

পানি সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা জরুরি

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।

মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, খরা মোকাবিলা এখন আর কোনো একক দেশের বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট ও ভূমি অবক্ষয়ের প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করছে। এ কারণে খরা সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দেশের খরা ও ভূমি অবক্ষয় একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিত খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। ওই অঞ্চলে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়। অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।

কৃষকদের খরা মোকাবিলায় আগাম তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি জানান, ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব জলাধার পুনরুদ্ধারের ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং সেচ ও অন্যান্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা পানি সংকটে থাকা অন্যান্য দেশের জন্যও কার্যকর হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের সংকটের কথা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে লবণাক্ত পানি ক্রমশ কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে। এতে উপকূলীয় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা শুধু পানি সংকট কমানোর বিষয় নয়; এটি ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি কার্যকর উপায়। এ কারণে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ন্যায্য পানি বণ্টনকে খরা সহনশীলতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। বাংলাদেশের BAMIS থেকে পাওয়া তথ্য এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবও দেন মন্ত্রী।

খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও কৃষকদের মধ্যে তা সম্প্রসারণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে UNCCD-এর সদস্য দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী পর্যায়ের এ সংলাপে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। পাশাপাশি খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM), ইউনিসেফ, জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয় (UNDRR), ইউএনডিপি, IFAD, AIIB এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD