ইতালির সিসিলির একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের চারটি ‘অমূল্য’ চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে প্রখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার আঁকা ‘পলিপটিচ অব সান গ্রোগোরিও’-এর তিনটি প্যানেল এবং ‘ম্যাডোনা উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ক্রাইস্ট ইন পিত্তা’-এর একটি দ্বিমুখী প্যানেল রয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জুলি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিসিলির আন্তঃবিষয়ক জাদুঘর থেকে মূল্যবান এসব শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে। চিত্রকর্মগুলো কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কালোবাজারের সঙ্গে যুক্ত চোরেরা কোনো নির্দিষ্ট অর্ডারের ভিত্তিতে চিত্রকর্মগুলো চুরি করে থাকতে পারে। নিরাপত্তা কাচের ঘরে সংরক্ষিত কাঠের প্যানেলে আঁকা শিল্পকর্মগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকিউরি জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। কীভাবে চোরেরা জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অতিক্রম করল এবং অ্যালার্ম না বাজিয়ে কীভাবে শিল্পকর্মগুলো নিয়ে বের হয়ে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মারিসা মারকিউরি এই চুরিকে জাদুঘর, মেসিনা শহর এবং বৃহত্তর শিল্পজগতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, শত শত বছর ধরে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা।
মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলও ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি চুরির ঘটনাকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।
চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে ‘সান গ্রোগোরিও পলিপটিচ’ বিশেষ ঐতিহাসিক ও শিল্পমূল্যের অধিকারী। ১৫ শতকের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনা ১৪৭৩ সালে এই চিত্রকর্মটি আঁকেন। পলিপটিচটির অবশিষ্ট থাকা পাঁচটি প্যানেলের মধ্যে তিনটিই এবার চুরি হয়েছে।
একই সময়ের শিল্পকর্ম ‘ম্যাডোনা উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ক্রাইস্ট ইন পিত্তা’-এর দ্বিমুখী প্যানেলটিও আন্তোনেলো দা মেসিনার সৃষ্টি। এটি ব্যক্তিগত প্রার্থনার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ফলে চুরি যাওয়া চারটি শিল্পকর্মই শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার পর পুলিশ চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর সন্ধান এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল কি না এবং অ্যালার্ম ব্যবস্থা কেন সক্রিয় হয়নি, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ইতালিতে মূল্যবান শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে পার্মার একটি জাদুঘর থেকে সেজান, রেনোয়ার ও মাতিসের প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের চিত্রকর্ম চুরি হয়েছিল। পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্যারিসের বিখ্যাত লুভর জাদুঘর থেকেও বিপুল মূল্যের অলংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সিসিলির এই ঘটনায় আবারও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। চুরি যাওয়া রেনেসাঁ যুগের চারটি শিল্পকর্ম উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।