শিরোনাম :
পাহাড়ে কফি-কাজুবাদাম চাষ ও আধুনিক শিক্ষায় সরকারের গুরুত্ব লন্ডন সামিটে বাংলাদেশের অফশোর জ্বালানি সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রতিনিধিরা সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগী বাছাইয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়: সংসদীয় কমিটি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘চান্স নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তারিক সিদ্দিককে দুদকের তলব দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিনের ছুটি সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি বিদেশি আটক রাখাইনে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৩৩ চীনের নতুন ধরনের ব্যাটারি শিল্পের উন্নয়নে সাত বিভাগের যৌথ পরিকল্পনা

পাহাড়ে কফি-কাজুবাদাম চাষ ও আধুনিক শিক্ষায় সরকারের গুরুত্ব

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষি, শিক্ষা, পর্যটন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। পাহাড়ে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের সমতলের সমকক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট ২০২৬ মাসের পর্যালোচনা সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ও প্রকল্প সাহায্যসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশ ও কৃষির আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেন, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের বিপুলসংখ্যক গাড়ির আগমন পাহাড়ি পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ওয়াশরুম সুবিধা বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট পয়েন্টগুলো আরও পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পাহাড়ি কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একরপ্রতি কফি ও কাজুবাদাম চাষ দীর্ঘমেয়াদে, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত, উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে লাল মাশরুম চাষের সম্প্রসারণ এবং নেপালের ইসিমোড (আইসিমোড) ভিত্তিক ওয়াটার সোর্স তৈরির মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও পানির প্রবাহ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ই-লার্নিং ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের সমতলের শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।

পাহাড়ি নারীদের দীর্ঘদিনের পানি সংগ্রহের দুর্ভোগ কমাতে প্রতিটি উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতের সুবিধা বাড়াতে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটন ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের মেধাবী সন্তানরা যাতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও গবেষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে, সে সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD