শিরোনাম :
গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি জার্মানিতে একদিনে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দাবানল, কৃষি সংকট, জ্বালানির দাম, গোয়েন্দা সংস্কার ও ফ্রাঙ্কফুর্টে ধর্মঘট পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ শিল্প গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফরে ক্ষুব্ধ টোকিও, কড়া প্রতিবাদ জাপানের সবুজ উন্নয়নের পথে চীন, প্রকৃতি সুরক্ষায় জোর দিচ্ছেন সি চিন পিং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে সব মার্কিন সেনা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল ও দোকানপাট প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা করবে সরকার

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট কাটতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গত তিন সপ্তাহ ধরে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যেই পেট্রোবাংলার টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়ার আগেই গত চার দিন ধরে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমিয়ে দিতে হচ্ছিল।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে। গতকাল প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ার পাশাপাশি আবাসিক, শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্যাস গ্রাহকের ভোগান্তিও আরও তীব্র হতে পারে।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমেছে। একই সময়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা, কয়লা ও তেল আমদানি বাড়ানো এবং এসব জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। পেট্রোবাংলা ও সামিটের টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ পেতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটে। তার আগের দিন রোববার রাত ১টায় ঘাটতি ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর একই সময়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। চলতি বছর সেই চাহিদা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানাগুলো গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। এতে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া। মহেশখালীর সামিটের টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার টার্মিনালও বয়লার সমস্যার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। এই টার্মিনাল থেকে বর্তমানে দৈনিক ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনালটি দৈনিক ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সামিটের নতুন এলএনজি কার্গো ১৫ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। এরপর পেট্রোবাংলার টার্মিনালকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ করতে হবে। এ কারণে সামগ্রিক এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

গ্যাসের সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাসের অভাবে বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। চলমান সংকটের সময় সেই সরবরাহ একপর্যায়ে ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যায়। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

এদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন কমেছে। পটুয়াখালীর নোরিনকো কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট কমেছে। ফলে বর্তমানে সেখান থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১৫ আগস্টের পর সামিটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতিতে প্রথম দফায় কিছুটা উন্নতি দেখা যেতে পারে। এরপর পেট্রোবাংলার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।

তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি, এলএনজি কার্গো খালাস এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। জ্বালানির এই সংকটে ইতোমধ্যে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় গত প্রায় ১০ দিন ধরে ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপ এখন রাজধানী ঢাকাতেও পৌঁছেছে এবং ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও পিডিবি।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD