শিরোনাম :
জার্মানিতে একদিনে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দাবানল, কৃষি সংকট, জ্বালানির দাম, গোয়েন্দা সংস্কার ও ফ্রাঙ্কফুর্টে ধর্মঘট পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ শিল্প গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফরে ক্ষুব্ধ টোকিও, কড়া প্রতিবাদ জাপানের সবুজ উন্নয়নের পথে চীন, প্রকৃতি সুরক্ষায় জোর দিচ্ছেন সি চিন পিং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে সব মার্কিন সেনা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল ও দোকানপাট প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ লঘুচাপের প্রভাবে চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, বৃষ্টির পূর্বাভাস অব্যাহত

সবুজ উন্নয়নের পথে চীন, প্রকৃতি সুরক্ষায় জোর দিচ্ছেন সি চিন পিং

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

১৫ আগস্ট চীনের চতুর্থ জাতীয় পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সুরক্ষাকে বরাবরই চীনের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে জাতীয় পরিবেশ সুরক্ষা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ওই সময় নীল আকাশ, স্বচ্ছ পানি ও পরিচ্ছন্ন মাটির জন্য গৃহীত তিনটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

হুবেই প্রদেশের এনশি বান্নারের বাদং জেলা ইয়াংজি নদীর প্রথম গন্তব্য। এটি ইয়াংজি নদীর হুবেই অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সুরক্ষা এলাকা এবং ‘সুন্দর চীন ভ্রমণ গন্তব্য’ তালিকায়ও স্থান পেয়েছে। বাদংয়ে ইয়াংজি নদীর ৩৯ কিলোমিটার অংশ হুবেই প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সুরক্ষা অঞ্চল হিসেবে নদীর পানির গুণমান রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া, গত ৩০ জুলাই ৪ কোটি ইউয়ানেরও বেশি বিনিয়োগে ইংথুও বর্জ্যপানি শোধনাগারের সরঞ্জাম সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প চালু হয়। এর ফলে বর্জ্যপানি শোধনের পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুনির্দিষ্ট, বৈজ্ঞানিক ও আইনভিত্তিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হুবেই প্রদেশ। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রদেশটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ইয়াংজি নদীতে প্রবাহিত ১২ হাজার ৪৮০টি পয়ঃনিষ্কাশন নালার সংস্কার সম্পন্ন করেছে।

ইয়াংজি নদীর হুবেই অংশ এবং দানজিয়াংকৌ জলাধার এলাকার পানির গুণমান ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় শ্রেণি বা তার ওপরে রয়েছে। এসব পদক্ষেপ ইয়াংজি নদীর দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নতুন অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরে হেইলংচিয়াং প্রদেশ ইস্পাত, সিমেন্ট ও কোকিং শিল্পে ২৬২টি অতি-স্বল্প নির্গমন রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে বিক্ষিপ্তভাবে কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ ৬৮ লাখ ৭০ হাজার টন কমেছে।

মাটির দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছে শানতোং প্রদেশ। ২০২৫ সালের মধ্যে বন্ধ ও স্থানান্তরিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ জমির মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণের হার অর্জন করেছে এবং দূষিত আবাদি জমির শতভাগ নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।

নদী ও সমুদ্রের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় ফুচিয়ান প্রদেশ সাতটি জাতীয় পর্যায়ের সুন্দর নদী ও হ্রদ এবং ৯টি জাতীয় পর্যায়ের দৃষ্টিনন্দন উপসাগর গড়ে তুলেছে। এ সূচকে প্রদেশটি দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে।

সি চিন পিং উল্লেখ করেছেন, শিল্পখাতের কাঠামোকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে হবে, উদ্ভাবনের চালিকাশক্তির ভূমিকা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে এবং সবুজ উন্নয়নের পথ অনুসরণ করতে হবে।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে শানতোংয়ের চিনান আয়রন অ্যান্ড স্টিল গ্রুপ মহাকাশ শিল্পের বিকাশে চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মহাকাশ তথ্য উদ্ভাবন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শানতোং প্রদেশে জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন অনুমোদিত একমাত্র স্যাটেলাইট এআইটি অ্যাসেম্বলি লাইন পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে মহাকাশ, উচ্চমানের সরঞ্জাম ও নতুন উপকরণ শিল্পকে সমন্বিত করে একটি নতুন ও পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে উঠছে।

সি চিন পিং আরও বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। জাতীয় উদ্যানকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিতে হবে।

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব চীনের বাঘ ও চিতাবাঘ জাতীয় উদ্যানটি হেইলংচিয়াং ও চিলিন প্রদেশজুড়ে বিস্তৃত। এটি চীনে বন্য সাইবেরিয়ান বাঘ ও আমুর চিতাবাঘের বৃহত্তম এবং একমাত্র প্রজননক্ষম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ কোরিয়ান পাইন চীনে রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি চীনের লেসার খিংগান পর্বতাঞ্চলে অবস্থিত।

চীনের পরিবেশ সুরক্ষার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ দেখায়—সবুজ উন্নয়ন এখন আর শুধু একটি ধারণা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য পথ। নীল আকাশ, নির্মল জল ও সবুজ পাহাড়ের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে মানুষ ও প্রকৃতির সুরেলা সহাবস্থানের আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে এগিয়ে চলেছে চীন।

সূত্র: ছাই-ফয়সল-শিশির, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD