মানবপাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতা আরও সুসংহত করার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। পাশাপাশি পাচারকারী চক্র শনাক্তে তথ্য বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের জাতিসংঘ হাউজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আইওএমের উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস-এর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দশক ধরে আইওএম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
মানবপাচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভয়াবহ আন্তর্জাতিক অপরাধ, যার শিকার অনেকেই অজ্ঞতা, প্রতারণা ও লোভের কারণে হন। তিনি জানান, সরকার সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধ, মানবপাচার এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যক্রম জোরদার করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে জানতে চান, পাচারকারী চক্র সম্পর্কে আইওএমের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে কি না। জবাবে উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, আইওএম পাচারকারী নেটওয়ার্ক শনাক্তে সহযোগিতা করতে সক্ষম। এছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবপাচারের প্রবণতা-সংক্রান্ত তথ্যও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিময় করা হয়।
আইওএমের উপমহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি মানবপাচার রোধে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও জোর দেন।
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইওএমের উপমহাপরিচালক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এ সময় বাংলাদেশে আইওএমের নবনিযুক্ত মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইওএমের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।