শিরোনাম :
সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ ইতালির স্কুলে হিজাব-বোরকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও আসছে সীমা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা চায় অ্যাঙ্গোলা সৌরশক্তি ও পশুপালনের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন পথ সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে ২০ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রির অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে অপ্রতিম হত্যা তদন্তে অগ্রগতি, উদ্ধার আইফোন দেশের ৩৭ জেলায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা—এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া ভারতের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস তেল ও জ্বালানি বিক্রি। মস্কোর এই আয় কমিয়ে দেওয়াই ওয়াশিংটনের নীতির অন্যতম লক্ষ্য।

তবে নতুন শুল্ক কখন এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা অনেকটাই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে কি না কিংবা হলে তা কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। ফলে দিল্লি নতুন আইনকে চাপ সৃষ্টির একটি সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক সমঝোতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, চলতি গ্রীষ্মে ভারতের মোট আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেকই রাশিয়া থেকে এসেছে।

রুশ তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ভারতকেও নিজেদের তেল কেনার পরিকল্পনা ও কৌশল বারবার পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়। বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাতে রাজি হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করে দেয়। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ভারতসহ কয়েকটি দেশকে রাশিয়া থেকে বেশি তেল কেনার অনুমতি দেয়। এখন আবার ভারত বেশি পরিমাণে রুশ তেল কেনায় শাস্তির হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করাও ভারতের জন্য সহজ নয়।

নতুন মার্কিন শুল্ক হুমকির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। গত বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশ থেকে তেল কেনা হবে এবং সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ভারত সতর্ক করে বলেছে, নতুন মার্কিন আইনের প্রভাব কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধের জন্য চাপ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এবারও দিল্লিকে একই সঙ্গে দুটি বিষয় সামলাতে হচ্ছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে সাশ্রয়ী দামে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা।

পরিস্থিতির আরেকটি জটিল দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধের আগে ভারতের আমদানি করা রান্নার গ্যাসের মাত্র ৮ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসত। বর্তমানে সেই অংশ বেড়ে ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে।

নয়াদিল্লির গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ও সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে ভারতের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, কিছু ভারতীয় রপ্তানিকারক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই পণ্যের দাম বাড়বে।

শ্রীবাস্তবের মতে, নতুন আইন ট্রাম্পকে আগের সীমিত ক্ষমতার কিছুটা ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিও এখনো ঝুলে আছে। ফলে নতুন আইন ভারতের কাছ থেকে আরও ছাড় আদায়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি অতিরিক্ত হাতিয়ার তৈরি করেছে। তবে তাঁর মতে, শুধু একটি চুক্তি স্বাক্ষর করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বড় বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করার পর শুল্ক ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে নতুন বিরোধে জড়িয়েছে। ফলে নতুন আইন ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশকেও উদ্বিগ্ন করছে।

চীনও সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

রাশিয়া থেকে ভারতের চেয়েও বেশি পরিমাণে তেল আমদানি করে চীন। নতুন মার্কিন আইন চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে ভারতের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন, ওয়াশিংটন ভারতের মতো চীনের ওপরও একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করবে কি না।

বিষয়টি ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে মোকাবিলার কৌশলের অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। ঘটনাটি পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে থাকা দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দৃশ্যমান বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সি চিন পিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সি রাজা মোহনের মতে, ভারতকে দুটি অস্বস্তিকর বিকল্পের একটির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কড়াই থেকে লাফ দিয়ে চীনের আগুনে পড়তে চান?’

চীনের শক্তি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার যথেষ্ট কারণ ভারতের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—নতুন কোনো সমঝোতা হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত কতটা স্থায়ী হবে।

অজয় শ্রীবাস্তবের পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কোনো নতুন চুক্তিতে যাওয়া উচিত হবে না।

সূত্র: প্রদত্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD