সকালের পদচারণায় পাঁচটা পি-মন্ত্র
— ফারুক সৈয়দ,পেন হাউস, সিল্কেবর্গ,ডেনমার্ক।
দাহ্য জ্যৈষ্ঠের রোদ
ফুটপাথের জমাট শীত গলিয়ে দেয়।
পাখিদের অবহেলা করা দুঃসাধ্য—
তাদের উন্মত্ত কলতান
আমার সঙ্কুচিত, সংশয়ভরা হৃদয়কে উষ্ণতায় ভরায়।
নগর ছেড়ে ফাঁকা পথ,
শুধু একদিকে
যানবাহনের ঘন স্রোত—
সবাই নিষ্ঠাবান তাড়নায় ছুটে চলে,
সেই অবধারিত জটের দিকে।
দানবের ক্ষুধা বুকে নিয়ে
চাকা ঘুরে চলে সামনের পথে –
নির্বন্ধাতিশয় ত্বরান্বিত গরজে!
এক খেয়ালি হলুদ বাস
বিপরীত পথে – সম্পূর্ণই নিঃসঙ্গ।
সাইনবোর্ডে লেখা তার – গন্তব্যহীন যাত্রা।
চালক, আধো-নিদ্রালু চোখে, হাত নাড়ে।
সে কখনো মুখের দিকে তাকায় না,
নিত্য ব্যস্ত কেবল মাথা গোনায়।
মোড়ের চেনা সেই বেকারি
ছড়িয়ে দেয় সুপ্রভাতের স্বপ্ন!
মুচমুচে উষ্ণ পাউরুটি,
গরম বান, আর
নরম পেস্ট্রি –
সুপ্রিয়া মহিলার প্রভাতী সুগন্ধ।
আমি ফিরে চলি,
চার মাইল পদচারণা পেছনে ফেলে।
মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র কোষগুলো
এক গাঁজনধরা মতবাদ চিবোতে থাকে।
আমাকে আয়ত্ত করতেই হবে
পাঁচটি পি-মন্ত্র;
আমার প্রকাশকের
অবিচল তাগিদের স্মারক:
—পারফেক্ট
—পলিশ
—প্রোনাউন্স, তদনন্তর
—পাবলিশ
কিন্তু পঞ্চম ‘পি’-টা কেন বিলীন হয়ে গেলো –
তীব্র, অনিবার্য কারণে
প্রকৃতি তার দাবি জানায়।
আর আমি দেহের অতিরিক্ত জলকে
মাটির হাতে ফিরিয়ে দেই॥