চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯ ও ২০ মে চীন সফর করবেন। এ বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত সমন্বয় অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। জটিল ও সদা পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সামনে দু’নেতা কৌশলগত নির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অটল ও স্থিতিশীল থাকে এবং বিশ্বকে স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
দু’জন নেতাদের নেতৃত্বই চীন-রাশিয়া সম্পর্কের উচ্চস্তরের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুবিধা ও মৌলিক নিশ্চয়তা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সি চিন পিং ও পুতিন বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং অসংখ্য আন্তরিক আলাপচারিতা ও খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন। ২০১৯ সালে দু’নেতা যৌথভাবে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন যুগের জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের উন্নয়নের ঘোষণা দেন। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুণগত উন্নতি সাধন করে। উভয় পক্ষ কৌশলগত যোগাযোগ আরও গভীর করছে, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি আরও সুসংহত করছে এবং চীন-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বাস্তব সহযোগিতাগুলো হলো চীন-রাশিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি। জটিল ও সদা পরিবর্তনশীল বাহ্যিক পরিবেশের সম্মুখীন হয়েও টানা তিন বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও গভীর ও বাস্তবসম্মত হয়েছে। স্থানীয় সহযোগিতা ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে এবং সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ, সবুজ অর্থনীতি ও আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্সের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো সমৃদ্ধি লাভ করছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিমাণগত সঞ্চয় থেকে গুণগত উল্লম্ফনের দিকে এগিয়েছে। উচ্চমানের ও বাস্তবসম্মত সহযোগিতার এই সংমিশ্রণ উভয় দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা বয়ে এনেছে। এদিকে, চীন-রাশিয়া ভিসামুক্ত নীতি বাস্তবায়নের ফলে জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান আরও সক্রিয় হয়েছে এবং শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন বিনিময় ক্রমাগত গভীরতর হয়েছে। গত বছর ‘চীন-রাশিয়া সাংস্কৃতিক বর্ষ’ সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরে ‘চীন-রাশিয়া শিক্ষা বর্ষ’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। চীন-রাশিয়া বন্ধুত্বের প্রজন্মগত হস্তান্তর এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের সাথে সমন্বয় ও সমর্থন করে, যা বিশ্বকে দেখিয়ে দেয় যে প্রতিকূলতার মাঝেও ন্যায়পরায়ণতার জয় হয় এবং পরিবর্তনের সময়ে দায়িত্বশীলতাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল প্রধান দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আনুগত্যকে উৎসাহিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের অর্জনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করে এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে গঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালাকে অটলভাবে সমুন্নত রাখে।
ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে, উভয় দেশের উচিত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা, বহুপাক্ষিকতাকে দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা ও অনুশীলন করা, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও প্রাণশক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে একসঙ্গে কাজ করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকস-এর কাঠামোর মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় ও সহযোগিতা করা।
সূত্র: ছাই-তৌহিদ-ওয়াং হাই মান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।