বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতি ও ভাষাভিত্তিক চলচ্চিত্রচর্চাকে সামনে রেখে জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ভাষায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফিরে আসা (Return)’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ মে (২০২৬) শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ভিনটেজ কনভেনশন হলে এই বিশেষ প্রদর্শনীটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭টি আদিবাসী চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ড. মং উষা থোয়াইকে জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী এই প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাওসার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র গবেষক বিধান রিবেরু।
জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের সহ-সম্পাদক আজমীর তারেক চৌধুরীর সুচারু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শারমিনা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র সংগঠক সুমন চক্রবর্তী প্রমুখ। উক্ত প্রদর্শনীতে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত চলচ্চিত্রপ্রেমী, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন ড. মং উষা থোয়াই এবং এটি পরিচালনা করেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ। প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রের প্রযোজক ড. মং উষা থোয়াই ও পরিচালক প্রদীপ ঘোষ উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে তাদের নির্মাণ-অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং চলচ্চিত্রের মূল ভাবনা নিয়ে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জীবনের গভীর আবেগ, দৈনন্দিন সংগ্রাম, স্মৃতি এবং নিজস্ব আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের সহ-সম্পাদক আজমীর তারেক চৌধুরী জানান, “বাংলাদেশের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, স্মৃতি ও জীবন-অভিজ্ঞতা আমাদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চলচ্চিত্র সেই বহুস্বরিক বাস্তবতাকে ধারণ ও সংরক্ষণের এক শক্তিশালী মাধ্যম। ‘ফিরে আসা’ শুধু একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নয়; এটি পার্বত্য জনপদের মানুষের ইতিহাস, আবেগ ও আত্মপরিচয়ের শিল্পিত দলিল। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।”