শিরোনাম :
হৃদরোগে আক্রান্ত ৯ বছরের হাবিবুল্লাহ বাঁচতে চায়, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৫ লাখ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলুর বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার জার্মানিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় প্রবাসীদের অভিযোগ বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুঁজি ও কূটনীতির মেলবন্ধনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথরেখা আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক, মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি: আইসিডিডিআরবি করাচির দুই হাসপাতালে শতাধিক শিশুর এইচআইভি শনাক্ত, নীরব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপের মুখে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, বললেন ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই অগ্রাধিকার’

বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে দেশ ধ্বংস

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৮

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষতায় আসা মানে দেশ ধ্বংস হওয়া, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, দুনীতি করা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে উন্নয়ন, শান্তি ও দেশের উন্নতি।

বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা লাখ লাখ মানুষের জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দুপুর ১২টার পরই জনসভাস্থল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভামঞ্চে আসার আগেই জনসমাগম ছড়িয়ে পড়ে জনসভাসস্থল থেকে আপশাপাশের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরগাঁও আগমনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই ঠাকুরগাঁও জুড়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেন।

জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে মানুষ হোক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের উন্নত জীবন। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজ উন্নয়নের ছোঁয়া দেশের প্রতিটি এলাকায়, গ্রামগঞ্জে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে আপনাদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি। ২০১৪ সালে আবার ক্ষতায় আসতে পেরেছি বলেই উন্নয়ন করে যাচ্ছি।

ঠাকুরগাঁওবাসীকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে আপনাদের উন্নতি, শান্তি হবে। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিন, আপনাদের জীবন মান উন্নত করবো।

‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে নৌকায় ভোটচাই। আপনারা ওয়াদা করেন নৌকায় ভোট দিবেন।’
এ সময় লাখ লাখ মানুষ হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি সারা দিলে তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিন, সোনার বাংলা উপহার দেবো।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের দুনীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টির চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা ক্ষমতাকে ভোগের মনে করি না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে লুটপাট করে। খালেদা জিয়ার দুই ছেলে ব্যাংক থেকে ৯৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ফেরত দেয় না।

‘৯১ সালে বিদেশ থেকে এতিমের জন্য টাকা আসে সেই টাকা এতিমের দেয়নি। একটি টাকাও এতিমরা পায়নি। খালেদা জিয়া লুটপাট করে খেয়েছে। এতিমের টাকা মেরে খাওয়ায় আদালতের রায়ে সাজা হয়েছে। এতিমের ট্কাা চুরি করে এর জন্য আন্দোলন কিসের। এতিমের টাকা চুরি জন্য শান্তির কথা তো কুরআন শরিফেও বলা আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন বিএনপি নেতার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। ওই যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সারা দিন মিথ্যা কথা বলে। মিথ্যা কথা বলতে বলতে গলা ফুলিয়ে ফেলে। চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যায়। মাঝে মাঝে বিদেশেও যায়। এতো মিথ্যা কথা বললে আল্লাহও নারাজ হয়।

‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন সে ছিলো বিমান প্রতিমন্ত্রী। বিমানকে ঝড় ঝড়ে করে ফেলেছিল। তিনি এই এলাকার মন্ত্রী আর সৈয়দপুর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়। তারা রাজশাহী বিমানবন্দর, বরিশাল বিমান বন্দর করে দেয়। আমরা ক্ষমতায় এসে এই বিমানবন্দরগুলো চালু করেছি। ৮টি বিমান কিনেছি,আরও ২টি বিমান কেনার প্রকিয়ায় আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি ৩ হাজার ৩৬ জন মানুষ পুড়িয়েছে। প্রায় ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। শুধু মানুষের লাশ আর লুটপাট ছাড়া তারা কিছুই দিতে পারে না। আমার কাছে কোনো কিছু দাবি করার প্রয়োজন নেই। আমি সারা দেশ ঘুরেছি, দেশের প্রতিটি উপজেলায় গিয়েছি। ট্রেনে, নৌকায়, ভ্যানে করে আমি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি মানুষের দুঃখ-কষ্ঠ দেখেছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী, ঠাকুরগাঁয়ে, অর্থনৈতিক অঞ্চল, আইটি পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সঙ্গে আন্তনগর টেন চালুসহ বেশ কিছু উন্নয়নের আশ্বাস দিলে লাখ লাখ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে ও উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পদাক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD