“বাংলাদেশ ও ইউরোপের সেতুবন্ধন” এই প্রত্যয়কে ধারণ করে German Bangla Channel Association-এর উদ্যোগে ১১ এপ্রিল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে “৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও বর্তমান বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা, গুণীজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
Frankfurt-এর স্যালবাউ এনকহাইম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জেনেভা, স্পেনের মাদ্রিদসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন, যা আয়োজনটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা প্রদান করে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র “আজীবন মুক্তিযোদ্ধা” প্রদর্শনের মাধ্যমে, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। এরপর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে পুরো পরিবেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামরুল আহসান সেলিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মুনীব রেজওয়ান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. আব্দুল হাই ও ফাতেমা রহমান রুমা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী।তিনি তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয়ের মর্যাদা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন এ. এম. শাহাদাত হোসেন, সৈয়দ সেলিম, আমিনুর রহমান খসরু, মহসিন হায়দার মনি, খন্দকার মাহমুদুল্ গানি এবং ড. নূরুন নবী। বিশেষ চলচ্চিত্র নির্মাণে অবদানের জন্য নাদিম ইকবাল (“আজীবন মুক্তিযোদ্ধা”) ও আদম দৌলা (“বৈষম্য”) সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া সংগীত, সাহিত্য, কবিতা, মানবাধিকার ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তাপসী রায়, মো. আব্দুল মুনিম, রিয়েল আনোয়ার, কাহ্ন জাতিস্মর, লুথফা হ্যাপি, খলিলুর রহমান, এম. ডি. নিজামউদ্দিন, হামিদুল্লাহ খান, আব্দুল হাই, ছাইফুল আমিন ও শ্রাবণ রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। উল্লেখ্য, German Bangla Channel Association দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা সহযোগিতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

অনুষ্ঠান আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করে আমাদের গল্প ঘর, হোটেল প্রিন্সেস-এর স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব।

পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মুল আয়োজনে ছিলো-জার্মান বাংলা চ্যানেল এসোসিয়েশন।