শিরোনাম :
বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে অভিযোগ: তদন্ত শেষে পদক্ষেপের আশ্বাস হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বাংলাদেশে ২.১৯ কোটি টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য চার প্রস্তাব পাঠক চাহিদায় সমৃদ্ধ হচ্ছে অনলাইন সাহিত্য খাত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন-স্পেন যৌথ উদ্যোগ ইন্টারনেট সম্মেলনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অগ্রগতির রূপরেখা বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময় স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি-ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬ সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন: ধর্মমন্ত্রী।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন-স্পেন যৌথ উদ্যোগ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকালে বেইজিংয়ের গণমহাভবনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সানচেজ চীনে সরকারি সফরে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও পরিবর্তনশীল হলেও চীন ও স্পেনের সম্পর্ক সবসময় স্থিতিশীলভাবে বিকশিত হয়েছে; এর ফলে একটি কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল চীন-স্পেন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হলো—যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বাস্তবতা প্রমাণ করেছে, সহযোগিতা গভীর করা দুই দেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং যুগের বিকাশধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এতে প্রত্যেক দেশের স্বাধীন পথে এগিয়ে চলার শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। উভয় পক্ষের উচিত নিজ নিজ বৈদেশিক নীতিতে চীন-স্পেন সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় পরস্পরকে সমর্থন করা। তিনি বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য ও ধাপভিত্তিক অর্জনযোগ্য লক্ষ্যকে সমন্বিত করে ধারাবাহিকভাবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। চীনের আধুনিকায়ন এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প রয়েছে এবং উচ্চমানের উন্মুক্ততার মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নের সুযোগ ভাগ করে নিতে দেশটি ইচ্ছুক। চীন নিজের উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আস্থা ও গতি যোগাবে। উভয় পক্ষের উচিত সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা চালানো, বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা এবং সংস্কৃতি, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়া বিনিময় উৎসাহিত করা, যাতে দুই দেশের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও ফলপ্রসূ হয় এবং জনগণের জন্য আরও কল্যাণ বয়ে আনে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ এবং ন্যায় ও শক্তির দ্বন্দ্বের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার প্রতি একটি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তার বিশ্বদৃষ্টি, শৃঙ্খলাবোধ, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে প্রতিফলিত করে। চীন ও স্পেন উভয়ই নীতিনিষ্ঠ ও ন্যায়পন্থী দেশ। তাদের উচিত যোগাযোগ বাড়ানো, পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জোরদার করা, যাতে বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে না যায়। একই সঙ্গে প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা রক্ষা, জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গঠিত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নেওয়া, এবং মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, চার বছরে তাঁর চারবার চীন সফরই প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেয়। চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ ও সহযোগিতা স্পেনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্পেন দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে, বৈশ্বিক পরিসরে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং কৌশলগত স্থিতিশীল স্পেন-চীন অংশীদারিত্ব বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্পেন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতে চায়। বর্তমান জটিল ও তীব্র আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বিরোধের মুখে শুধু বহুপাক্ষিকতা এবং বহুমেরু বিশ্ব গঠনের মাধ্যমেই মানবজাতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব।

স্পেন চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানায় এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতা রক্ষা করতে চায়। স্পেন ‘নতুন ঠান্ডা যুদ্ধ’ এবং ‘সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও সরবরাহশৃঙ্খল ভাঙার’ বিরোধী; ইউরোপ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে। ইউরোপ-চীন সম্পর্কের স্বাস্থ্যকর বিকাশ উভয় পক্ষের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও সহায়ক। ওয়াং ই সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD