বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
সরকারের কঠোর অবস্থান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ এবং অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকের পর ঐক্য পরিষদ থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলো।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্য পরিষদ বলেছে, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সরকার রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে তাকেও এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ ইতিবাচকভাবে দেখছে।
ঐক্য পরিষদ নেতারা বলছেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সাপ্লাই চেইন সচল রাখা তথা অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ তাদের কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করছে। তবে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে আমাদের উদ্যোগ ও কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
মে মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।
এই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এরপর আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ঘোষণা করেন।
দাবি আদায়ে শনিবার (২৮ জুন) থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি শুরু করে এনবিআর কর্মীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম।
এমন প্রেক্ষাপটে চলমান সংকট নিরসনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেয় সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে এনবিআর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফেরার এবং আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়।
এ আহ্বানে সাড়া না দিলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয় সরকারের তরফ থেকে।
দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটির সব স্তরের কর্মচারিরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন।
এ কর্মসূচির মধ্যে রোববার এনবিআরের সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ঘোষণা করে সরকার।
পরে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ওই বৈঠকের পরে এনবিআর ঐক্য পরিষদকে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে রোববারই এনবিআরের অচলাবস্থা নিরসনে পাঁচ উপদেষ্টার সমন্বয়ে একটি কমিটি করে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
এই উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে এনবিআর সংস্খার ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কমিটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে তারা টেকসই রাজস্ব সংস্কারে অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করেন।