জার্মান-বাংলা ডেস্ক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তরায় নবনির্মিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন – বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভবনটির উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি আসন্ন রোজার মাসে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।
বিজিএমইএ কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের উন্নতির লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে বিজিএমইএকে ভবন নির্মাণে জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক সোনারগাঁও হোটেলের সঙ্গে মিল রেখেই ওখানে জায়গা দেওয়া হয়। তখন একটা অনুরোধও ছিল, ভবন কোনোমতেই যেন খালের ভেতর না যায়। দুর্ভাগ্য হলো, পরে সেই ভবন করা হলো খালের ভেতরেই। সেখানে একটা ব্রিজ তৈরি করে তার ওপর দিয়ে যাতায়াত! তিনি বলেন, সরকার চায় না দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হোক। কারণ এ দেশের গার্মেন্ট সারা পৃথিবীতে রফতানি হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিরাট অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিজিএমইএর সাবেক তিন সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্স থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, রুবানা হকসহ শিল্পোদ্যোক্তারা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সূত্র জানায়, হাতিরঝিল থেকে বিজিএমইএ ভবন স্থানান্তর করতে উত্তরার ১৩ তলাবিশিষ্ট দুটি টাওয়ার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে বেজমেন্টসহ (ভিত্তি) ভবনের পাঁচতলার কাজ শেষ হয়েছে। ৪০ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনী হলসহ ভবনটি তৈরি হচ্ছে রাজধানীর উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে লেকসাইট ভিউর সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর।
৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন : গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্প স্থাপনের উপযোগী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, নতুন ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন এবং নতুন ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপনসহ ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে রোজা। এ সময় তেল, ছোলা, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, সে জন্য আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সরবরাহ যেন থাকে, সে বিষয়টিও আপনাদের দেখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী পরে মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সিটি ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী রোজায় চিনি, ডাল, ছোলার সমস্যা যেন না হয়। রমজানে দাম যেন বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’ সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরসহ ব্যবসায়ীরা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।
এর আগে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও তিনি একই আহ্বান জানান। এ সময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালসহ ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সিলেটের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই প্রবাসীরা যেন এগিয়ে আসে। তারা যেন বিনিয়োগের সুযোগ পায়।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।