মিনহাজ হোসেন ইতালী প্রতিনিধি: ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাপক কারচুপির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে ইতালী বিএনপির নাপোলী শাখা। এই ফলাফল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে তারা। গত ২৭ জানুয়ারি রোববার রাতে ইতালীর প্রাচীনতম শহর নাপোলীর যম যম রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় অতিথিরা এসব কথা বলেন।
সভায় নাপোলী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে ও নাপোলী জুলিয়ানো বিএনপির সভাপতি সুলেমান বেগ এবং নাপোলী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সোহাগের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালী বিএনপিসহ সভাপতি শাহজাহান তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাপোলী যুবদলের সভাপতি আবু নাসির। প্রধান বক্তা নাপোলী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজান মজুমদার এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন নাপোলী বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, নাপোলী যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নানু মিয়া, সাবেক ছাত্রদল অর্গেনাইজেশন ইতালী শাখার যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাহার, যুগ্ম আহবায়ক মিনহাজ হোসেন, মাছুম বিল্লাহ, আব্দুলা মামুন, নাপোলী জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সজল মন্ডল, নাপোলী জিয়া পরিষদ মহানগরের সভাপতি বুরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, নাপোলী উলামাদলের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, নাপোলি মহানগর যুবদলের সভাপতি আফিল উদ্দিন, নাপোলী মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মিন্টু মিয়া আবুল খায়ের, রুহিন আহমদসহ নাপোলি বিএনপি ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি শাহজাহান তালুকদার বলেন, দেশের প্রায় সব আসন থেকে একই রকম ভোট ডাকাতির খবর এসেছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচন বর্জন করার দাবি করেছেন। এ অবস্থায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে এ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করা হোক। তিনি এ নির্বাচনের ‘কথিত’ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেন।
এতে অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, সংসদ গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রেতাত্মা। এ সংসদ গণবিরোধী, ভুয়া ভোটের সংসদ বসেছিল সেদিন। তারা বলেন, প্রহসনের নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন, আইন-আদালত, পুলিশ-প্রশাসন সবাই ভুয়া ভোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গুলি হেলনে উঠবস করতো। ধূর্তামি, শঠতা ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনি মাঠ কব্জায় নিয়ে একতরফা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। ভোটের মাঠ শূন্য করতে সরকারি প্রশাসন মহা-তৎপরতায় লিপ্ত ছিল।
মূলত, রক্তাক্ত মূর্তি নিয়েই তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার আত্মসাৎ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগের রাতে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা ব্যালট বাক্স ভরে রাখেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও দলটির জোট সদস্যরা ৯৫ শতাংশ আসন নিশ্চিত করার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। তখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইতালী সহ বিভিন্ন দেশের বি এন পি সমর্থক ও বি এন পি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ভোট জালিয়াতি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
পরিশেষে নাপোলী বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের সমাপনি বক্তব্যর মাধ্যমে ও ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও একমিনিট নীরবতা পালন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।