উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি চূড়ান্ত হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উপস্থাপন করেন। পরে বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ জুন সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এখন বিলটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০০১ সালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি আর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রায় আড়াই দশক ধরে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগের ধারণার পরিবর্তে একটি বহুমুখী সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অনুষদে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রাখা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্থায়ী কমিটির সুপারিশ শেষে বিলটি আবারও জাতীয় সংসদে পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সংসদে অনুমোদন পেলে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সূত্র: জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ