শিরোনাম :
হৃদরোগে আক্রান্ত ৯ বছরের হাবিবুল্লাহ বাঁচতে চায়, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৫ লাখ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলুর বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার জার্মানিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় প্রবাসীদের অভিযোগ বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুঁজি ও কূটনীতির মেলবন্ধনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথরেখা আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক, মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের বেশি: আইসিডিডিআরবি করাচির দুই হাসপাতালে শতাধিক শিশুর এইচআইভি শনাক্ত, নীরব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিট কেলেঙ্কারি ঘিরে চাপের মুখে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, বললেন ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই অগ্রাধিকার’

মাদক আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮

জার্মানবাংলা২৪ ডটকম, রিপোর্ট: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ’ (এমএসভিএসবি) গবেষণাতে দেখা যায়, দেশে ভয়াবহ মাদকের বিস্তার, অব্যাহত প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, নারীর উপার্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যয়ে বাধা, পারিবারিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের প্রতিবন্ধকতায় অপ্রত্যাশিতভাবেই তালাক বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘দেশে ক্রমাগতভাবে বিবাহিত ও তালাকপ্রাপ্ত পুরুষ উভয়ই বেড়েছে। তবে বিবাহিত পুরুষ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিপত্নীক পুরুষের সংখ্যাও বেড়েছে।’

তালাকপ্রাপ্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা পুরুষের হার ২০১৬ সালে ছিল শতকরা ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরের বছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশে। এই হার ৫ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে দশমিক ৪ ভাগ।

বিবিএস-এর প্রতিবেদন বলছে, দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। এ বিচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি এগিয়ে।

২০১৭ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুসারে দেশের মোট বিবাহযোগ্য পুরুষ জনসংখ্যার ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ। ২০১৬ সালে এ হার ছিল ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের বিয়ের হিসাব কষে এ হার বের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, দেশে পুরুষ ও নারীর বিবাহের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে বিচ্ছেদের হারও বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশে পুরুষের বিবাহের গড় বয়স ছিল ২৫ দশমিক ১ বছর। এটা ২০১৬ সালে আরেকটু বেশি ছিল ২৫ দশমিক ২ বছর। তবে নারীদের বিয়ের গড় বয়স আগের মতোই রয়েছে – ১৮ দশমিক ৪ বছর।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করছেন সায়েম সাবু। বিবাহ বিচ্ছেদের নানাবিদ কারণের সঙ্গে তিনি মাদকের বিস্তৃতিকে অন্যতম বড় কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন।

মাদকের প্রভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের মাত্রা এখন ভয়াবহ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বিচ্ছেদের বড় কারণ। বিশেষ করে বিয়ের পর নেশাগ্রস্ত স্বামীর প্রতি স্ত্রী আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ নানা অপরাধের সঙ্গেই যুক্ত হতে পারেন। নেশায় আক্রান্ত মানুষ শারীরিকভাবেও ধীরে ধীরে অক্ষম হয়ে ওঠে। সংগত কারণে একজন নারী ওই পুরুষের কাছে জীবন ও সংসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না। তখন বিচ্ছেদ আবশ্যক হয়ে ওঠে। নারীদেরও কেউ কেউ নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের কারণেও বিচ্ছেদ ঘটছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আদনান রহমান মনে করেন সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ প্রযুক্তির উৎকর্ষতা। তিনি বলেন, ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক বাড়ার কারণে স্ত্রীকে সময় দেন না স্বামী। স্ত্রীও পর্যাপ্ত সময় দেন না স্বামীকে। ফলে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। একসময় এই সম্পর্কে তিক্ততা বেড়ে যাচ্ছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদকে আমরা সবসময় আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিচার করি। সবসময় এটা অবক্ষয় নয়, সামাজিক পরিবর্তনও হতে পারে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে উন্নত দেশের মতো যুবক যুবতীদের বিবাহ সম্পর্কে অরিয়েন্টেশন কোর্স বা প্রোগ্রাম করার পরামর্শ দেন তিনি। এটি শহরে আগে শুরু করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এসআর//

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD