বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান শিরোনাম নিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) বাংলা বিভাগ।
বৃহস্পতিবারের (৩ জুলাই) এই প্রতিবেদনে ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের একটি শিরোনামকে তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান শিরোনাম ‘How many arms licenses does Adviser Asif hold?’ অর্থাৎ, ‘উপদেষ্টা আসিফের কাছে কয়টি অস্ত্রের লাইসেন্স আছে?’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শনিবার (২৯ জুন) ঢাকার বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাগে একটি বন্দুকের ম্যাগাজিন (একটি গুলিসহ) পাওয়া গেলে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।
তিনি জানান, এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে রেখে গিয়েছিলেন এবং এতে কোনো অবৈধতা নেই। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তার কাছে বৈধ অস্ত্র আছে এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকায় এটি রাখা স্বাভাবিক।
ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে জানা যায়, তার নামে দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স আছে, একটি পিস্তল ও একটি শটগানের জন্য।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসন থেকে এই লাইসেন্সগুলো ইস্যু করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৩ হাজার ৮৬৪টি ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে।
আইন অনুযায়ী সাধারণত কেউ অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়স, সুস্থতা ও তিন বছর নিয়মিত আয়কর পরিশোধের প্রমাণ থাকতে হয়।
তবে মন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল হয়। আসিফ যেহেতু উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদা পান, তাই তিনি বয়স ও আয়করের শর্ত ছাড়াই লাইসেন্স পেতে পারেন।
তবে কেউ যদি অস্ত্রের অপব্যবহার করে বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তাহলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা যায়।
নিয়ম অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স রাখতে পারেন।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘রিজার্ভ চুরির সুরাহা, আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে কমিটিও পূর্বের পথেই হাঁটছে’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্ক অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি।
এর মধ্যে মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা গেলেও বাকি ৬৬ মিলিয়ন এখনো ফেরত আসেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনে মামলা চলছে।
শেখ হাসিনার সরকার তদন্তে বিলম্ব করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, এবং মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই তদন্তকে ভিন্ন পথে চালানো হয় বলে সমালোচনা আছে।
অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর মার্চে আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে তিন মাসে সুপারিশ দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হলেও চার মাস পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এ পর্যন্ত কমিটির মাত্র দুটি বৈঠক হয়েছে এবং পুরনো পথেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এসব উদ্যোগের বাইরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়েও পর্যালোচনা করেছে আসিফ নজরুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি। ২০১৬ সালে দায়ের করা রিজার্ভ চুরির মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে দাখিল করতে পারেনি সিআইডি।
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানো হয়েছে অন্তত ৭৫ বার। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিবেদন দিতে আরও নয়বার সময় নেয় সিআইডি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট আসলে রাতেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাতে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছিল।
তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআই কর্মকর্তারা পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল, যা তিনি পরে বুঝতে পারেন।
মি. হুদার দাবি, ভোটগ্রহণের আগের রাতেই অনেক কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়, আর কোথাও কোথাও ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়, যা তার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসন, পুলিশ ও সরকারি দলের প্রভাবে।
এমনকি নিজে ও কমিশনের অন্য সদস্যরা এই অনিয়ম সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপির বহু নেতা-কর্মীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কিছু করতে পারেননি।
এ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হয়, এবং এটি গ্রহণযোগ্যতা হারায়।
নূরুল হুদার ভাগনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে এমপি হন, সেটিও তিনি স্বীকার করেন, যদিও তিনি মনোনয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন এবং তার স্বীকারোক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আদালত অবমাননার অভিযোগে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই মামলায় গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুল দুই মাসের সাজা পেয়েছেন। এ রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো আইনি রায় হলো।
বিষয়টি শুরু হয় যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হওয়ায় তিনি ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছেন।
সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ফোনালাপটি সত্য প্রমাণিত হলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
হাসিনা ও বুলবুল বারবার আদালতের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় রাষ্ট্র তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করে। তবে সেই আইনজীবীর পেশাগত নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক ওঠে।
রায়ে আদালত বলেন, এই ফোনালাপে বিচারক, তদন্তকারী ও সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
তাই এটি আদালত অবমাননা হিসেবে প্রমাণিত। প্রসিকিউটররা জানান, সাক্ষীরা আতঙ্কে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন, যা বিচার ব্যাহত করছে।
তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমীর হোসেন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।
আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, ‘ফুটবলে ইতিহাস , মেয়েদের এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠেছে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ ছিল বাহরাইন, মিয়ানমার ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে। প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে হারানোর পর গতকাল শক্তিশালী স্বাগতিক মিয়ানমারকে দুইএক গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে মূল পর্বে জায়গা।
দুটি গোলই করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
ম্যাচের শুরুতেই মিয়ানমার আক্রমণাত্মক হলেও ঋতুপর্ণার দুটি দুর্দান্ত গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়।
মিয়ানমার একবার গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষদিকে মিয়ানমার একটি গোল শোধ করলেও জয় ধরে রাখে বাংলাদেশ।
গোলবারে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন গোলরক্ষক রুপনা চাকমা, আর সুযোগ মিস করলেও আক্রমণে তৎপর ছিলেন সুলতানা ও মনিকারা।
দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন গ্রুপের শীর্ষে। শেষ ম্যাচে হারলেও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে হেড-টু-হেডে।
সাত বছর আগে এই মিয়ানমারের কাছেই একই মাঠে পাঁচ শূণ্য গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই হারের বদলা নিয়েছে তারা।
ঋতুপর্ণারা এখন প্রস্তুত হচ্ছে ২০২৬ সালের অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার জন্য।
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘এবার তোপের মুখে এনবিআর, বিব্রত মধ্যস্থতাকারীরা’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভেতরে চলমান অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি সরকার এনবিআরের তিন সদস্য ও এক কমিশনারকে অবসরে পাঠিয়েছে এবং একজন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনবিআরের আরও কয়েকজন সদস্য ও কমিশনারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।
এসব ঘটনায় এনবিআরের সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় তারা গত ২৯শে জুন আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফিরে যান, সরকারের আশ্বাসে ভরসা করে।
কিন্তু এখন তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে বিব্রত হচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারাও।
তারা বলছেন, চরম পরিস্থিতি ঠেকাতে মধ্যস্থতা করলেও এখন সরকারের অবস্থান তাদের সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস বন্ধ করে ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এক কমিশনারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুদকও ১৩ জন এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
আন্দোলনকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলেন, এখন তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরাও সরকারের কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং এভাবে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘তত্ত্বাবধায়কে একমত সব দল’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সব রাজনৈতিক দলই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে একমত হয়েছে। তবে এই সরকারের গঠন, মেয়াদ এবং কাজের পরিধি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত রয়ে গেছে।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অষ্টম বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আরও প্রায় ৩০টি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সবাই এ ব্যাপারে সহমত যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন।
বিএনপি চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ তিন মাস হোক, প্রয়োজনে এক মাস বাড়ানো যেতে পারে।
জামায়াত চায়, জাতীয় ও স্থানীয়, দুই ধরনের নির্বাচনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হোক। তারা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চায়।
অন্যদিকে এনসিপি চায় রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে সংসদীয় একটি কমিটি গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ঠিক করতে।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, সবাই আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, তাই দ্রুত জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় ঐকমত্য সনদে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এই ঐকমত্য জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ।