জিবি ডেস্ক: ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার (সুয়েডীয়: Nobelpriset) প্রবর্তিত হয়। ঐ বৎসর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকাণ্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধুমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় অসলো, নরওয়ে থেকে। বাকি ক্ষেত্রে স্টকহোম, সুইডেনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বর্তমানে আয়োজকদের নারী লিপ্সা, যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক দুর্নীতির কারণে এবছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বাতিলই হয়ে যেতে পারে। যদি এমনটাই ঘটে, তাহলে ৭০ বছরের ইতিহাসে এটাই হবে প্রথমবার! এর আগে ১৯৪৩ সালে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে পুরস্কার বন্ধ রাখা হয়েছিলো।
এ ইস্যুতে সুইডিশ একাডেমির ছয়জন সদস্য ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। যাদের মধ্যে রয়েছে সংস্থার প্রধান সারা ডেনিউস। ওই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন আরো ১০ সদস্য। আগামী মঙ্গলবার তারা এক জরুরি বৈঠকে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১২জন সদস্যের সম্মতি লাগে। তাই জটিলতা কী করে কাটবে, সেটা এখনো ধোঁয়াশাতেই রয়ে গেছে।
এদিকে গত নভেম্বরে ‘মি টু’ ক্যাম্পেনের সময় সুইডিশ একাডেমির ১৮জন নারীকর্মী যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন সংস্থারই এক কর্তার বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আর্নল্ট নামে ওই কর্তা বিভিন্ন সময়ে বহু নারীকর্মীকে যৌন হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই ১৮জনের মধ্যে দু’জন— গ্যাব্রিয়েলা হাকানসন এবং এলিজে কার্লসন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখও খোলেন। পরের দিনই সংস্থার প্রধান সারা জানান, আর্নল্টের সঙ্গে সমস্তরকমের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সুইডিশ অ্যাকাডেমি।